সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বদলে গেল ৬৩৪০৬ ডাউন সাহেবগঞ্জ রামপুরহাট মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সময়সূচি। সাহেবগঞ্জ ছেড়ে আসার সময় দু’ঘণ্টা এগিয়ে আনা হল। বিজ্ঞপ্তি জারি করে আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন সময়সূচি চালু করেছে রেল। এতে খুশি রুটের যাত্রীরা। বিশেষ করে জেলার রাজগ্রাম, মুরারই, চাতরা, নলহাটি সহ বহু এলাকার মানুষের সন্ধ্যার পর জরুরি চিকিৎসার জন্য রামপুরহাট মেডিক্যালে আসা এবং রামপুরহাটে নেমে ময়ূরাক্ষী এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে দেওঘর, বৈদ্যনাথ ধাম যাওয়ার সুবিধা হল।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে ডাউনে এই ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৫৫ মিনিটে সাহেবগঞ্জ ছেড়ে আসত। কিন্তু হাওড়া এনজিপি বন্দে ভারত সহ বিভিন্ন মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন, মালগাড়ি পাস করানোর জন্য বিভিন্ন স্টেশনে মিনিটের পর মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। রামপুরহাট জংশনে ট্রেনটি রাত ১০টা বেজে ৫৫ মিনিটে ঢোকার নির্দিষ্ট টাইম থাকলেও তা কোনওদিন রাত সাড়ে এগারোটা, কোনওদিন রাত একটায় প্রবেশ করত। চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতো এই ট্রেনের যাত্রীদের। বিশেষ করে যাঁদের রামপুরহাটে নেমে দূরবর্তী গ্রামে যেতে হয়, তাঁদের হয় ভোর না হওয়া পর্যন্ত স্টেশনে অপেক্ষা করত হতো, নতুবা হোটেলে রাত্রিবাস করতে হতো।
যাত্রীদের অভিযোগ, আপে ট্রেনটি সকাল ৬টা বেজে ৫ মিনিটে রামপুরহাট জংশন ছেড়ে ৯টা ৪০ অথবা দশটার মধ্যে সাহেবগঞ্জ পৌঁছে যায়। এতে আপের যাত্রীদের খুবই সুবিধা হয়। কিন্তু ডাউনে ট্রেনটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বে চলত। যাত্রীদের সুবিধার্থে রেল ট্রেনটির সাহেবগঞ্জ ছেড়ে আসার সময় দু’ঘণ্টা এগনোয় খুব সুবিধা হল।
নিত্যযাত্রী সাদেকুল হাসান, অনিমেষ কুমাররা বলেন, মুরারই, রাজগ্রাম, চাতরা ও নলহাটি এলাকার বহু মানুষ নিত্যদিন ঝাড়খণ্ডের পাকুর জেলার সরকারি দপ্তরে যাওয়া আসা করে। এছাড়া এই এলাকার অনেকে ব্যবসায়ী কাজে যান। পাকুরের পাথর শিল্পাঞ্চলেও এখানকার বহু শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের বাড়ি ফেরার ট্রেন বলতে ছিল এটি। কিন্তু ট্রেনটি প্রত্যেকদিন বিলম্বে চলায় তাঁদের দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হতো। সময়সূচি দু’ঘণ্টা এগিয়ে আসায় অনেকটাই সুবিধা হল। এছাড়া বিকেলের পর জরুরি চিকিৎসার জন্য রামপুরহাট মেডিক্যালে যাওয়ার অসুবিধেও দূর হল।
মুরারই নিত্যযাত্রী সঙ্ঘের পক্ষে জগন্নাথ সেবাদত্ত বলেন, বিকলের দিকে মুরারই থেকে মহকুমা শহর রামপুরহাটে আসার জন্য ৪টা বেজে ৪৫ মিনিটের পর রাত নটায় জামালপুর রামপুরহাট গয়া প্যাসেঞ্জার ছাড়া কোনও ট্রেন ছিল না। সাহেবগঞ্জ রামপুরহাট মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সময় দু’ঘণ্টা এগিয়ে আসায় মাঝে একটি ট্রেন মিলল। যেটি সন্ধ্যা সাতটা বেজে ৪০ মিনিটে মুরারই প্রবেশ করবে। অন্যদিকে এই ট্রেনের যাত্রীরা রামপুরহাটে নেমে রাত ১০টা বেজে ১০ মিনিটে ময়ূরাক্ষী এক্সপ্রেস ধরে দেওঘর বা বৈদ্যনাথ ধামে যেতে পারবেন। এতদিন ময়ূরাক্ষী ধরার জন্য দেড়-দু’হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া করে রামপুরহাটে যেত হতো। তিনি বলেন, রেল যদি ট্রেনটি সঠিক সময়ে চালায় তাহলে খুব অল্পদিনেই জনপ্রিয়তা লাভ করবে। মানুষের উপকার হবে। যদিও রেলের তরফে বলা হচ্ছে, যাত্রী সুবিধার্থে সময়সূচি পরিবর্তন।