নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: নির্মাণ কাজ শেষ হলেও প্রকল্প পরিচালনা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। ফলে পানীয় জলের পরিষেবা দেওয়া নিয়ে আতান্তরে পড়ে প্রশাসন। সমস্যা সমাধান করতে গোঘাট ১ ব্লকের এমন ১১ টি জল প্রকল্প পিএইচই-কে হস্তান্তর করছে ব্লক প্রশাসন। চলতি গ্রীষ্মের মরশুমেই সেই প্রকল্প থেকে বাড়ি বাড়ি জল দেওয়ার পরিষেবা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পিএইচই-র আরামবাগ মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ ভট্টাচার্য বলেন, ওই প্রকল্পগুলির পরিস্থিতি দপ্তরের মেকানিক্যাল বিভাগের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই সেগুলির হস্তান্তর হয়ে যাবে। তারপর জল দেওয়ার কাজও শুরু হবে।
গোঘাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ রায় বলেন, জল প্রকল্পগুলি ব্লক প্রশাসনের তত্বাবধানে তৈরি করা হয়। কিন্তু প্রকল্পগুলি চালাতে সঠিক গাইডলাইন ছিল না। অপারেটর নিয়োগ, বিদ্যুৎ বিল মেটানো নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তাই মানুষের স্বার্থে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। গরমের মধ্যে গ্রামের মানুষ যাতে জল পায় সেইজন্য তড়িঘড়ি সেই প্রকল্পগুলি পিএইচইকে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোঘাট ১ ব্লকে অন্তত ১০০ টি বাড়িতে পরিশ্রুত নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে দিতে প্রকল্পগুলি নেওয়া হয়। চক নেতরা, দেওয়ান চক, রাউতড়া, ডুমুর পাড়া, বাড়া কুমুরসা, জোট মহম্মমদ, আদ্রা, সূর্যপুর, পাল পুকুর প্রভৃতি এলাকায় হয়। ২০২৩-'২৪ আর্থ বর্ষে গোঘাটের ১১ টি জায়গায় প্রকল্পগুলি তৈরি হয়। প্রত্যেকটি প্রকল্প রূপায়নে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা করে। বর্তমানে সব প্রকল্পের কাজই প্রায় শেষ। কিন্তু নিটিগত কারণে সেই প্রকল্পগুলি থেকে জল দেওয়ার কাজ শুরু করতে আতান্তরে পড়ে প্রশাসন। প্রকল্পগুলিতে অপারেটর নিয়োগ করা, তাঁদের বেতন দেওয়া ও প্রকল্পের বিদ্যুতের বিল কোন তহবিল থেকে মেটানো হবে তা নিয়ে চাপানউতোর তৈরি হয়। তাই প্রকল্প প্রস্তুত হলেও জল সরবরাহের কাজ শুরু হচ্ছিল না। এবার যাতে জল দেওয়া যায় তাই জনস্বাস্থ্য কারিগরিকে দায়িত্ব দিতে চাইছে প্রশাসন। সেইজন্য শুরু হয়েছে প্রক্রিয়া।