


কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলু চাষিদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ায় খুশির প্লাবন বইছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলি জেলায়। মঙ্গলবার চন্দ্রকোণা বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষীরপাইয়ের চড়কডাঙ্গা মাঠে দলীয় প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলইয়ের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকেই তিনি বিপাকে পড়া আলু চাষিদের অভয় দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, চন্দ্রকোণা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এবার আলুর ফলন প্রচুর হয়েছে। তবে আলু তোলার মুখে অকাল বৃষ্টিতে চাষিরা গভীর সংকটে পড়েছেন। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় যে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছিল, তা এক লহমায় মুছে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। কোনো চাষির ফসল নষ্ট হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে। পাশাপাশি শস্যবিমার সুবিধাও রয়েছে। হিমঘর নিয়ে উদ্বেগ কাটাতে তিনি জানান, সরকার ৩০ শতাংশ হিমঘর তৈরি করেছে, যেখানে আলু রাখার সুবন্দোবস্ত করা হবে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও মিড ডে মিলের জন্য সরকার সরাসরি আলু কিনবে এবং প্রয়োজনে রাজ্যের বাইরেও আলু বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন প্রান্তিক কৃষকরা। চন্দ্রকোণার পানছড়া গ্রামের আলুচাষি সুকুমার ঘোষ বলেন, একেই বলে জনদরদী নেত্রী। অকালবৃষ্টির পর আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পাশে দাঁড়াবেন বলায় এখন বুক বাঁধতে পারছি। একই সুর শোনা গেল ওই গ্রামেরই সঞ্জিত ভুঁইয়ার গলায়। খুশিতে আত্মহারা সঞ্জিতবাবু বলেন, সরকারি স্তরে আলু কেনার সিদ্ধান্ত আমাদের মতো প্রান্তিক চাষিদের বড়সড় লোকসানের হাত থেকে বাঁচাবে। ভগবন্তপুরের চাষি বিজয় পানও মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। হুগলি জেলার কায়রাখালির চাষি অমর মাইতি এবং ওই জেলার সাঁইতে গ্রামের মিহির ঘোষালও মনে করছেন, নেত্রীর এই মানবিক ঘোষণা এবং এই সক্রিয়তা তাঁদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি এবং রাজ্য সহ সভাপতি মুকুলকুমার ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারের সভা থেকে আলু চাষিদের নিয়ে যা বলেছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। চাষিরা কার্যত নতুন করে অক্সিজেন পেলেন। নেত্রীর এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁকে আলু ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। তিনি পরোক্ষে বিজেপির উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, মেদিনীপুরের চাষিরা চরম সমস্যার মধ্যে থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের নিয়ে কিছুই ভাবেনি। রাজ্যের এই নেত্রীর এই ইতিবাচক পদক্ষেপে আপাতত নিশ্চিন্ত দুই জেলার হাজার হাজার আলু চাষি।