Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিএলও হতে চাই না, নেতাদের কাছে তদ্বির , হিমশিম অবস্থা পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের

বিএলও(বুথ লেভেল অফিসার) পদে যোগ দিতে নারাজ বহু সরকারি কর্মচারী। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে তদ্বির শুরু করে দিয়েছেন সরকারী কর্মীরা।

বিএলও হতে চাই না, নেতাদের কাছে তদ্বির , হিমশিম অবস্থা পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বিএলও(বুথ লেভেল অফিসার) পদে যোগ দিতে নারাজ বহু সরকারি কর্মচারী। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে তদ্বির শুরু করে দিয়েছেন সরকারী কর্মীরা। কেউ  সমস্যার কথা জানাতে নিজেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটছেন, কেউ রাজনৈতিক নেতাদের গিয়ে ধরছেন। উদ্দেশ্য, বিএলও ডিউটি থেকে রেহাই পাওয়া। প্রশাসন সূত্রের খবর, বিএলও পদে নিয়োগের জন্য বহু সরকারি কর্মীর কাছে কমিশনের তরফে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সেই চিঠি নিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বিএলওদের নাম তোলার জন্য ওটিপি শেয়ার করতে হচ্ছে। অনেকে আবার চিঠি নেওয়ার পরেও সেই ওটিপি শেয়ার করতে নারাজ। এর ফলে ভোটের কাজে ধাক্কা খাচ্ছে। জেলা তৃণমূলের সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন বলেন, কেউ কেউ তদ্বির করছেন। কিন্তু, আমরা তাতে মান্যতা দিচ্ছি না।

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলায় বর্তমানে ২৫২৯টি বুথ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত সমস্ত বুথের জন্য বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ করতে পারেনি কমিশন। এই পরিস্থিতিতে যাঁরা কমিশনের চিঠি গ্রহণ করছেন না কিংবা ওটিপি শেয়ার করছেন না, তাঁদের শোকজ করতে চলেছে কমিশন। শোকজের রিপোর্টে সন্তোষজনক না হলে কড়া পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 
কারা বিএলও হতে পারবেন, তা নিয়ে একাধিক নিয়ম বেঁধে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে রাজ্য সরকারের গ্রুপ-সি কর্মী কিংবা তার ঊর্ধ্বে কোনও সরকারি কর্মী, স্থায়ী শিক্ষক। তবে, অবশ্যই তাঁদের সংশ্লিষ্ট বুথের বাসিন্দা হতে হবে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষকদের। কোনও বুথে প্রথম ও দ্বিতীয় ক্যাটাগরির কর্মী না থাকলে সংশ্লিষ্ট বুথে আইসিডিএস কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে, অনেকেই বিএলও হতে অস্বীকার করায় বিপাকে পড়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা। পুরুলিয়া সদরের মহকুমা শাসক তথা পুরুলিয়া বিধানসভার ইআরও (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) উৎপল ঘোষ বলেন, যাঁরা চিঠি নিচ্ছেন না কিংবা ওটিপি শেয়ার করতে চাইছেন না, তাঁদের প্রথমে ফোন করে অনুরোধ করা হচ্ছে। অনুরোধে না সাড়া দিলে শোকজ করা হচ্ছে। পুরুলিয়া বিধানসভায় এরকম প্রায় ১০জনকে শোকজ করা হয়েছিল। যথাযথ উত্তর দিতে না পারায় ছ’জন নিয়োগপত্র গ্রহণ করেছেন। বাকিদের ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
কিন্তু, কেন বিএলও হতে অনীহা? এক সরকারি কর্মীর কথায়, যথাযথ কাগজপত্র না থাকার কারণে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ চলে গেলে আমরাই চক্ষুশূল হয়ে যাব। আবার কারও নাম ঢোকালে কমিশনের কোপে পড়তে হবে। তাই কেউ নিজের কিংবা বাবা মায়ের শরীর খারাপের অজুহাত দিচ্ছেন। যাঁদের বাবা, মা নেই তাঁরা ছেলে মেয়ের পড়াশোনার ক্ষতির কথা বলছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ