নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ইসিএলের ৪৭ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। বেশিরভাগ শ্রমিকের বেতন লক্ষাধিক টাকার বেশি। সংস্থার মোট ব্যয়ের ৬৫শতাংশই শ্রমিকদের বেতন ও মজুরি দিতে চলে যায়। বেতনের পাশাপাশি নানা সুবিধা মেলে। কিন্তু বেশিরভাগ শ্রমিকের জীবনযাত্রা এখনও উন্নত নয়। লক্ষাধিক টাকা বেতন সত্ত্বেও বহু শ্রমিক এখনও মহাজনের কাছে টাকা ধার নেন। মহাজনের কাছে তাঁদের ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড জমা থাকে। ইচ্ছেমতো টাকা তুলে দেয় সে। অনেক শ্রমিকই খুব বেশি মদ্যপান করে। মদের টাকা জোগাড় করতে গিয়েই বেতনের টাকা শেষ করে দেয়। এতে পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়। তাই ইসিএল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বদলাতে চাইছে।
মুম্বইয়ে ‘সেফটি ইন কোল মাইনস’ বিষয়ে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক হল। সোমবার এই বৈঠকে কোল ইন্ডিয়ার অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা, খনি নিরাপত্তা নিয়ে কী কী করা হয়েছে, তা তুলে ধরে। বৈঠকে ইসিএলের ডিরেক্টর(টেকনিক্যাল অ্যান্ড অপারেশন) নীলাদ্রি রায় নানা বিষয় তুলে ধরেন। সেখানেই ইসিএলের ফ্যামিলি কাউন্সিলিংয়ের বিষয়টি উঠে আসে। খনি দুর্ঘটনা এড়াতে শ্রমিকদের পরিবারেরও যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও খনি নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে যে এলাকায় কাঁচা টাকার হাতছানি, সেখানে নেশার পাশাপাশি বিবাহ-বর্হিভূত সম্পর্ক পারিবারিক বিবাদ তুঙ্গে তুলছে। যা উদ্বেগের বিষয়। কারণ খনিতে কাজ এখনও যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। মানসিক চাপে থাকা শ্রমিকদের দুর্ঘটনাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। সেজন্য ফ্যামিলি কাউন্সেলিংয়ে বাড়তি জোর দিয়েছে সংস্থা।
ইসিএল জানিয়েছে, খনি শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে সংস্থার কর্তারা বৈঠক করছেন। তাঁরা প্রতিটি পরিবারের সমস্যা শুনছেন। প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পারিবারিক সমস্যা যে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তা গৃহিণীদের বোঝানো হচ্ছে। স্বামীর মাদক সেবন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন, সেবিষয়ে পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। নাইট শিফটে ডিউটি করা শ্রমিকরা যাতে দিনে আটঘণ্টা ঘুমোতে পারেন, সেবিষয়েও তাঁদের পরিবারের সাহায্য চাইছে সংস্থা। কোনও খনি শ্রমিক কয়েকদিন কাজে না এলেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। খনি শ্রমিকদের পরিবারে শান্তি ফেরাতেও তৎপর ইসিএল।
সেইসঙ্গে বিভিন্ন খনির পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে হাতে টানা ঢুলির বদলে যন্ত্রচালিত আধুনিক ম্যান রাইডিং সিস্টেম চালু হচ্ছে। শ্রমিকদের সঙ্গে ‘টুলবক্স সেফটি টক’ করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন, সমস্যায় পড়লে কী করণীয়-তা জানানো হয়। সোমবারের বৈঠকে ইসিএলের আধিকারিক সবকিছুই তুলে ধরেন।