Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

দাতা ও প্রতারক

উনিশ শতক যেন বাঙালির কাছে দীর্ঘ নিদ্রার পর জাগরণের পালা। একই সময়ে এত মনীষীর উত্থান এর আগে বা পরে আর কখনও আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে বলে মনে হয় না।

দাতা ও প্রতারক
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজা ভট্টাচার্য: দুড়বাগানের নির্দিষ্ট বাড়িটার সামনে পৌঁছে ফটকের পাশে বসে থাকা লোকটিকে অঘোরনাথ বললেন, ‘আমি উত্তরপাড়া থেকে আসছি। ভিতরে খবর দাও, উত্তরপাড়া হাই স্কুলের...।’ 

Advertisement

কথাটা অবশ্য তিনি শেষ করতে পারলেন না, কারণ বাড়ির একতলার বারান্দায় এইমাত্র যিনি এসে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে চিনতে কারও ভুল হতে পারে না। 
এক মুহূর্তও দেরি না করে সেই রাস্তার উপরেই নতজানু হয়ে বসে পড়ে পথের ধুলোয় মাথা ছোঁয়ালেন অঘোরনাথ। 
একটু পরেই অবশ্য কাঁধের উপরে দু’টি শক্ত হাতের স্পর্শ অনুভব করলেন তিনি, ‘আহা, করেন কী মশাই! রাস্তা দিয়ে লোকজন যাচ্ছে! সবাই ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে! উঠে পড়ুন শিগগির!’ 
আজ প্রথম এই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন অঘোরনাথ। তাঁর সর্বাঙ্গে আরও একবার শিহরন হল। উঠে পড়ার পরিবর্তে তিনি হাত বাড়িয়ে কাঠের খড়ম পরা পা দু’টি একবার স্পর্শ করলেন, তারপর বজ্রাসনে বসে সেই হাত নিজের মাথায় বুলিয়ে নিলেন। এতদিনে তাঁর মানবজন্ম সফল হল বলে মনে হচ্ছে। 
এইমাত্র তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পদধূলি নিজের মাথায় ছোঁয়াতে পেরেছেন। 
প্রায় জোর করে টেনে ঈশ্বরচন্দ্র মাটি থেকে অঘোরনাথকে তুলে দিলেন‌। তারপর বিস্মিত ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মহাশয়ের নাম? কী উদ্দেশ্যে আগমন?’ 
‘আজ্ঞে, অধমের নাম অঘোরনাথ ঘোষ। আমি আপনাকে চিঠি লিখেছিলাম।’ 
বিদ্যাসাগর বললেন, ‘তাই তো বটে! আপনি বোধকরি উত্তরপাড়া হাই স্কুলের মাস্টারমশাই। কালকেই সেই চিঠি এসে পৌঁছেছে। আসুন, 
ভিতরে আসুন।’ 
বারান্দার লাগোয়া ঘরটিকে অতিথিদের বসার জন্যই সাজানো হয়েছে। সেখানেই একটি কাঠের চেয়ারে বসলেন অঘোরনাথ। মুখোমুখি বসলেন বিদ্যাসাগর। বললেন, ‘মাস্টারমশাই, আগে বরং একটু জল খেয়ে নিন। বেজায় হাঁপিয়ে গেছেন বলে মনে হচ্ছে।’ 
অঘোরনাথ আগের মতোই কাঁপা গলায় বললেন, ‘আজ্ঞে হাঁপিয়ে যাইনি বিদ্যাসাগর মশাই। আসলে আপনাকে প্রথমবার দেখে একটু ইয়ে হয়ে পড়েছিলাম।’ বলে অপ্রতিভ ভঙ্গিতে হাসলেন। 
বিদ্যাসাগর নিজেও হাসতে হাসতে বললেন, ‘এমন উড়ে বেহারার মতো চেহারার মানুষকে 
হঠাৎ দেখলে যেকোনো ভদ্রলোকেরই চমকে যাওয়ার কথা।’ 
অঘোরনাথ জিভ কেটে মাথা নিচু করে হাসতে লাগলেন। বিদ্যাসাগর যে হামেশাই নিজের চেহারা নিয়ে এরকম রসিকতা করে থাকেন, সে কথা তিনি রামতনুর কাছে শুনেছেন একাধিকবার। 
‘তারপর বলুন, আপনার বিদ্যালয়ের পড়াশোনা কেমন চলছে। আচ্ছা কথা পরে হবে। আগে একটু জলযোগ করে নিন।’ 
চোখ তুলে অঘোরনাথ দেখলেন, একটি অল্পবয়সি ছেলে থালায় কিছু মিষ্টান্ন আর জলের গ্লাস নিয়ে ঘরে ঢুকেছে। সাবধানে থালাটাকে টেবিলের উপর নামিয়ে রাখল সে, তারপর আবার অন্দরে ঢুকে গেল। কিন্তু তার মধ্যেই অঘোরনাথ শুনতে পেলেন তার অতি মৃদু কণ্ঠস্বর, ‘সাধুঃ সাধূ সাধবঃ, সাধুম্ সাধূ সাধূন্...।’
‘ছেলেটি বুঝি আপনার এখানে থেকে পড়াশোনা করছে?’ বাচ্চাটি বেরিয়ে যাওয়ার পর জিজ্ঞাসা করলেন অঘোরনাথ। 
বিদ্যাসাগর গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘পড়াশোনায় মোটেও মন নেই। নইলে বুদ্ধি ছিল খুব। তাতেও গতবছর জলপানি পেয়ে... আচ্ছা আপনি আগে খেয়ে নিন।’ 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাড়িতে যে এরকম বেশ কিছু দরিদ্র বালক আশ্রিত হিসাবে থেকে কলকাতার বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা করে, সে কথা সকলেই জানে। অঘোরনাথ আর কথা না বলে মিষ্টান্নে 
মন দিলেন। 
বিদ্যাসাগর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভালো কথা, আপনাদের স্কুলের সেই ছেলেটির খবর কী? প্রমথ নস্কর! তার তো বোধকরি এবার সেকেন্ড ক্লাস হল, তাই না?’
এইবার অঘোরনাথ একটু চমকে গিয়ে বললেন ‘প্রমথ নস্কর? আজ্ঞে ওই নামে কোনো ছেলে তো আমাদের স্কুলের সেকেন্ড ক্লাসে পড়ে না!’ 
বিদ্যাসাগর বিরক্ত ভঙ্গিতে বললেন, ‘কী যে বলেন মাস্টারমশাই! আপনি বোধকরি স্কুলের সব ছাত্রের নাম এই মুহূর্তে স্মরণ করতে পারছেন না। প্রমথ নস্কর সেই তিন বছর আগে আমার কাছে চিঠি লিখে জানিয়েছিল, তার কাছে বই কেনার পয়সা নেই। আমি যদি বইগুলি পাঠিয়ে দিই, তাহলে তার পড়াশোনার বিশেষ উপকার হয়। আমি চিঠি পাওয়া-মাত্র সমস্ত বই তাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সেই থেকে প্রতি বছর সে আমাকে চিঠি লিখে আসছে, আমিও বই পাঠিয়ে দিচ্ছি। এই তো, গত সপ্তাহেই বোধহয় তার চিঠি এসেছে। দাঁড়ান, সে হয়তো এখনও খুঁজলে পাওয়া যাবে।’
এই বলে বিদ্যাসাগর পাশের ড্রয়ারটি খুলে কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেই বের করে আনলেন একটি খাম। অঘোরনাথের দিকে সেটা এগিয়ে দিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বললেন, ‘এই দেখুন, প্রেরকের জায়গায় স্পষ্ট লেখা রয়েছে— প্রমথনাথ নস্কর, সেকেন্ড ক্লাস, উত্তরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।’ 
কয়েক মুহূর্ত খামটির দিকে তাকিয়ে থেকে অঘোরনাথ যখন মুখ তুললেন, তখন তাঁর কপালে তিনটে ভাঁজ পড়েছে, ‘বিদ্যাসাগর মশাই, এমনটা আমার কদাচিৎ ঘটে, যখন বিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রের নাম আমার স্মরণে থাকে না। আপনি জানেন, কিছুদিন আগেও আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন পূজ্যপাদ রামতনু লাহিড়ী মশায়। তিনিও স্কুলের সমস্ত ছাত্রের একেবারে ঘরের খোঁজ রাখতেন। সেই ধারা আমরা বন্ধ হতে দিইনি। কিন্তু প্রমথনাথ নস্কর... আজ্ঞে না বিদ্যাসাগর মশাই, আমার অন্তত এই মুহূর্তে এরকম কোনো ছাত্রের নাম মনে পড়ছে না।’ 
সামান্য অধৈর্যের সুরে ঈশ্বরচন্দ্র বললেন, ‘দেখ কাণ্ড! একটা অভাবী ছেলে, তার পড়াশোনার এত আগ্রহ যে, বছরের পর বছর সে আমাকে চিঠি লিখে বই আনিয়ে নিচ্ছে! আর আপনি তার নাম মনে করতে পারছেন না? আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে মাস্টারমশাই। আগের তুলনায় নিশ্চয়ই ছাত্র এখন আরও বেড়েছে। রামতনুবাবুই বলেছিলেন তাঁর ইস্কুলে আড়াইশো ছাত্র পড়ে।’ 
তাঁকে প্রায় বাধা দিয়ে অঘোরনাথ বললেন, ‘এখন ছাত্র সংখ্যা চারশতর উপরে।‌ কিন্তু বিশ্বাস করুন, তাদের মধ্যে প্রমথনাথ নস্কর বলে কেউ আছে বলে আমার অন্তত এই মুহূর্তে মনে 
পড়ছে না।’ 
অবুঝ ভঙ্গিতে বিদ্যাসাগর মশাই বললেন, ‘ও নিশ্চয়ই আপনি ভুলে গিয়েছেন। কালকে স্কুলে গিয়ে খোঁজ নেবেন। সেকেন্ড ক্লাসে পড়ে সে। প্রত্যেক বছর আমার চিঠির উত্তরও দেয়।’ 
তীক্ষ্ণ চোখে প্রবাদপ্রতিম এই মানুষটির দিকে তাকিয়ে রইলেন অঘোরনাথ। বহুদিন ধরে তাঁর স্বপ্ন ছিল একবার ঈশ্বরচন্দ্রের সামনে এসে বসবেন, তাঁর পাদস্পর্শ করবেন। আজ সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে।‌ দূর থেকে যাঁকে শুধুমাত্র একজন কর্মবীর মহাপণ্ডিত মনীষী বলে মনে হয়েছিল, কাছ থেকে দেখে জেনে বুঝতে পারছেন— তিনি আসলে একজন অবুঝ স্নেহপ্রবণ প্রৌঢ়, মানুষের প্রতি বিশ্বাস যাঁর 
অবিশ্বাস্য পর্যায়ের। 
অন্যান্য কথাবার্তা চলতে লাগল এইবার। শুধু অঘোরনাথের মস্তিষ্কের কোনো এক গোপন কুঠুরিতে একটি নাম প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। প্রমথনাথ নস্কর! এই নামের রহস্য তাঁকে ভেদ করতেই হবে। বিদ্যাসাগর মশাই যাই বলুন, এই নামে স্কুলে কোনো ছাত্র নেই। কিছু একটা গোলমাল আছে এই ঘটনাটা ঘিরে। 
....
পরদিন স্কুলে পৌঁছে সবার আগে অঘোরনাথ সেকেন্ড ক্লাসের রেজিস্টারটা ভালো করে দেখলেন। প্রত্যাশা অনুযায়ীই সেখানে অমন কোনো নাম নেই। নিঃসন্দেহ হওয়ার জন্য অঘোর অন্য ক্লাসগুলোর রেজিস্টারগুলোও তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখে নিলেন। নাহ্, ওই নামের কোনো ছাত্র উত্তরপাড়া হাই স্কুলে পড়ে না।
পাশে বসে এতক্ষণ ধরে তাঁর কাণ্ড দেখছিলেন কালিদাস বিদ্যারত্ন, স্কুলের সংস্কৃত পণ্ডিত। এবার আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘অঘোর কি বিশেষ কোনও ছাত্রের নাম খুঁজছ নাকি? 
তোমার তো এমনিতেই সব মুখস্থ! কার নাম খুঁজে বেড়াচ্ছ হে?’ 
অঘোর বললেন, ‘গতকাল বিদ্যেসাগর মশাইয়ের বাড়ি গিয়েছিলাম পণ্ডিতমশায়।’ 
বিদ্যারত্ন একবার কপালে হাত ছুঁইয়ে বললেন, ‘জানি তো!’ 
‘তো তিনি বললেন...’ 
অঘোর ঘটনাটা বলে গেলেন সংক্ষেপে। তিনি যে নিজের চোখে সেই খাম দেখে এসেছেন, 
সেটাও বললেন। 
বিদ্যারত্ন সন্দেহের সুরে বললেন, ‘প্রেরকের ঠিকানা উত্তরপাড়া, সেটা ঠিকঠাক দেখেছ?’
‘আজ্ঞে বিলক্ষণ!’ 
‘নামটা কী বললে?’
‘প্রমথনাথ নস্কর।’ 
‘হুম্। অন্তত আমাদিগের স্কুলের ছাত্র যে নয়, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। ওই পদবিধারী কোনো ছাত্রই...কিন্তু এই পদবি আমি দেখেছি! প্রায়ই দেখি। কোথায় বল দেখি? কোথায় দেখলাম!’ 
বলতে বলতে বিদ্যারত্নের গলা মৃদু হয়ে এল। বোঝা যায়, তিনি খুব চেনা কোনো সূত্র মনে করতে পারছেন না।
এইবার অঘোরেরও মনে পড়ল, প্রায়ই এই পদবি তিনিও দেখে থাকেন। কোথায়? 
হঠাৎ প্রায় লাফিয়ে উঠলেন প্রৌঢ় বিদ্যারত্ন! অঘোরের হাত ধরে টেনে তুলে বললেন, ‘এসো দেখি! শিগগির!’ 
হুড়মুড় করে দুই অসমবয়সি শিক্ষককে স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে ছাত্রেরা যে ক্লাস থেকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে, সেটা খেয়ালই করলেন না বিদ্যারত্ন। দ্রুত পায়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে তিনি এসে দাঁড়ালেন রাস্তার উলটোদিকের একটা দোকানের সামনে। তার সাইনবোর্ডে বড় বড় করে লেখা আছে— ‘নস্কর বুক ডিপো। এখানে স্কুলপাঠ্য সমস্ত বই পাওয়া যায়।’ 
মুহূর্তের জন্য দৃষ্টি বিনিময় করে সটান দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালেন ওঁরা দু’জন। ভিতরে এক মাঝবয়সি ভদ্রলোক বসে মনযোগ দিয়ে পুরানো বইয়ের মলাটে আঠা লাগাচ্ছেন। দুই শিক্ষককে দেখে তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়ালেন তিনি। 
শক্ত গলায় অঘোর বললেন, ‘নস্কর মশায়! আমাদের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঠালেন।’ 
এই একটিমাত্র কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ভদ্রলোকের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। বিড়বিড় করে তিনি বললেন, ‘বিদ্যাসাগর মশাই!’ 
অঘোর মনে মনে ঠিক এই লক্ষণটুকুর আশাতেই ছিলেন। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। 
‘আপনার লজ্জা হওয়া উচিত! সামান্য কয়েকটা বইয়ের জন্য আপনি অমন একজন মানুষের সঙ্গে মিথ্যাচার করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে! আর তিনি জানেন, এক দরিদ্র ছাত্রের... ছিঃ!’ 
‘বিশ্বাস করুন মাস্টারমশাই, নিতান্ত খেলাচ্ছলে...।’ দোকান থেকে বেরিয়ে এসেছেন ভদ্রলোক, চেপে ধরেছেন অঘোরের দুই হাত, ‘এক বন্ধু বলল, তিনি নাকি এসব শুনলেই বই পাঠিয়ে দেন! নেহাত সেইটে পরীক্ষা করার জন্য...।’ 
‘আর আপনি সেই বই বিক্রি করে দিলেন! পারলেন অমন কাজ করতে?’ বিদ্যারত্নের গলায় অসীম বিস্ময়। 
‘আজ্ঞে আর এমন পাপ করব না। বিশ্বাস করুন, প্রথমবার সত্যিই বই আসায় লোভে পড়ে...।’ এইবার হু হু করে কেঁদে ফেললেন তিনি। 
কিছুক্ষণ পর ধীর পায়ে স্কুলের গেটের দিকে হাঁটতে হাঁটতে বিদ্যারত্ন বললেন, ‘এ কথা 
তাঁকে জানিয়ে দেওয়া উচিত, অঘোর! তুমি 
কালই একবার...।’ 
‘কোনো লাভ নেই, পণ্ডিতমশায়!’ মৃদু হেসে বললেন অঘোর, ‘‘আমি বুঝে গেছি, তিনি এমনই। আমি লিখে দিতে পারি, যদি তাঁকে এ কথা জানাই, তিনি বলবেন— ‘আহা, অভাবী মানুষ! দায়ে পড়ে...। তাছাড়া অনেকেই তো সত্যিই অভাবে পড়ে জানায়, বল? ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় করে লাভ কী?’ নিশ্চিত এমনই কিছু বলবেন তিনি।’’ 
‘থাক, বাবা! জানিও না তাঁকে।’ কিছুক্ষণ পর বললেন বিদ্যারত্ন, ‘এই বিশ্বাসটুকুই তো আছে তাঁর! মানুষের উপর বিশ্বাস!’ 
‘সেই।’ একটা নিঃশ্বাস ফেলে অঘোর বললেন, ‘আর আমরা তাঁকে, তাঁর বিশ্বাসকে শুধু ব্যবহার করে গেলাম।’ 
হঠাৎ আকাশের দিকে মুখ তুলে দুই হাত একবার কপালে ছোঁয়ালেন অঘোরনাথ, যেন ঈশ্বরের উদ্দেশে প্রণাম জানাচ্ছেন। 
সবার ঈশ্বর অবশ্য স্বর্গে থাকেন না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ