সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনই সরকারকে সংসদে কোণঠাসা করল বিরোধীরা। প্রতিবাদের মূল ইস্যু একটাই — অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামি চুরি। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লোকসভায় প্রবেশ করতে দেখে শাসকদল বিজেপি চিৎকার শুরু করে, ‘ভারত মাতা কি...’। আর প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই কংগ্রেসের দিক থেকে উড়ে এল স্লোগান— ‘চাঁদা চোর’! অস্বস্তি এড়াতে ঘড়ি ধরে মাত্র সাত মিনিট সভায় থেকেই বেরিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীরা অবশ্য বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। দিনভর তাদের মুখে ছিল এই ‘চাঁদা চোর’ স্লোগান। ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানোর সময়ও হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘চাঁদা চোর’। কংগ্রেসের সঙ্গে এই বিক্ষোভে যোগ দেয় মমতাপন্থী তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) সহ সমস্ত বিরোধী দলের সাংসদরা। তাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে লোকসভা।
শুধু প্রণামি চুরি নয়, প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতেও এদিন সরকারকে চেপে ধরে বিরোধীরা। স্পিকারের পক্ষ থেকে প্রশ্নোত্তর পর্ব, জিরো আওয়ার ইত্যাদি চালানোর প্রবল চেষ্টা হলেও বিরোধীদের সম্মিলিত স্লোগানে সভাই ভণ্ডুল হয়ে যায়। প্রতিবাদের পারদ চড়তে থাকায় দফায় দফায় ছ’বার সভা মুলতুবি রাখেন স্পিকার। শেষে সারাদিনের জন্য মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন।
এদিন সংসদে দেখা গিয়েছে নজিরবিহীন ঘটনা। বাইরে ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানীর রাজপথ। আর ভিতরে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’। সংসদের বাইরের পরিস্থিতিতে সরকার এতটাই বেসামাল যে, মুলতুবি করা হচ্ছিল আধঘণ্টা বাদেবাদেই। কিন্তু প্রায় পণবন্দির মতোই ভবনে আটকে রইলেন মন্ত্রী থেকে এমপিরা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বেরতে গিয়ে আটকে গেলেন। অথচ, সংসদ থেকে সেবা তীর্থ (পিএমও) মাত্র দুশো মিটার দূরে। পরে অবশ্য বেরিয়ে যান মোদি।
যে মন্দিরের প্রণামি চুরি নিয়ে এদিন উত্তাল হল সংসদ, সেই রামমন্দির ট্রাস্ট্রের কথা প্রধানমন্ত্রী নিজে সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন। অযোধ্যায় মন্দিরের ভিত পুজো থেকে উদ্বোধন, ধ্বজারোহন... সবই করেছেন নিজের হাতে। অথচ মন্দিরের প্রণামি চুরিতে তিনি ‘মৌন’! তাই সম্মিলিত বিরোধীরা ঠিক করেছিল, সংসদ অধিবেশনেই এব্যাপারে তাঁর কাছে জবাব চাওয়া হবে। সূত্রের খবর, এদিন সকালে সংসদ ভবনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঘরে তৈরি হয় স্ট্র্যাটেজি। ছিলেন রাহুল গান্ধীও। তৃণমূলের পক্ষে উপস্থিত হন সৌগত রায় এবং সাগরিকা ঘোষ। সকালের করা পরিকল্পনা অনুযায়ীই লোকসভায় মোদি ঢুকতে শুরু হয় ‘চাঁদা চোর’ স্লোগান।