নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: যে সমস্ত পড়ুয়ার ৫০শতাংশের কম উপস্থিতি রয়েছে, তাঁদের কলেজ গ্রন্থাগারে বইদান করতে হবে। দুঃস্থ পরিবারের পড়ুয়াদের জন্যই সেই বই নেওয়া হবে। কৃষ্ণনগরের দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কলেজের তরফে জারি করা এমন নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়েছে। এমনকী, সরকারি স্কলারশিপের জন্য বিভাগীয় প্রধানদের সই নেওয়ার আগে ওই পড়ুয়াদের বই জমা দিতে বলা হয়েছে। এনিয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই পড়ুয়াদের বইদান করতে জোর করছে।
অভিযোগকারী ফারুক আহমেদ বলেন, পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করে। কিন্তু সেই স্কলারশিপের আবেদন করার জন্য দুঃস্থ পড়ুয়াদের থেকে বই নেওয়া তো ঠিক নয়। এনিয়ে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও সার্কুলার নেই। তাই কলেজের প্রিন্সিপাল ছাত্রদের বই কিনে কলেজকে দান করার জন্য বাধ্য করতে পারেন না। আমরা চাই, ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত কলেজ আসুন। কিন্তু এই আর্থিক বোঝাটা যেন পড়ুয়াদের উপর কলেজ না চাপায়, সেটাই আমার আবেদন।’ এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্লোল পাল বলেন, এরকম কোনও অভিযোগ আমার কাছে এখনও আসেনি। তবে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কলেজের একটি বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। আমরা কলেজের প্রিন্সিপালের কাছে রিপোর্ট চেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, লাইব্রেরিতে অনেকেই স্বেচ্ছায় বই দান করেন। যে সমস্ত পড়ুয়ার ৫০শতাংশের কম উপস্থিতি রয়েছে, তাঁদের অভিভাবকদের কলেজের তরফে ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে পড়ুয়াদের নিয়মিত কলেজে আসার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। হয়তো কোনওভাবে এই দু’টি বিষয় মিশে গিয়েছে। লিখিত রিপোর্ট এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কলেজের অধ্যক্ষ বাণীব্রত গোস্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। ১ মার্চ কলেজের তরফে একটি নোটিস জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, ৫০শতাংশের কম উপস্থিতি রয়েছে, এমন পড়ুয়াদের কলেজের গ্রন্থাগারে দুঃস্থ পড়ুয়াদের স্বার্থে বইদান করতে হবে। সেইসঙ্গে ১৩ মার্চ কলেজের তরফে আরও একটি নোটিস জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, স্কলারশিপ ফর্মের জন্য বিভাগীয় প্রধানদের স্বাক্ষর নেওয়ার আগে যে সমস্ত পড়ুয়ার উপস্থিতির হার কম, তাঁদের কলেজের দেওয়া গ্রন্থতালিকা থেকে কিছু বই গ্রন্থাগারে জমা করতে হবে। ফাইল চিত্র