সংবাদদাতা, ডোমকল: ফের বাঙালি শ্রমিককে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে হেনস্তার অভিযোগ। তবে এবার ঘটনাস্থল খোদ পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার। ডোমকলের হাসিবুল শেখ নামের এক ফেরিওয়ালাকে কোচবিহারে ফেরি করার সময় বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা ও মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে বুধবার কোনও ফেরিওয়ালা ফেরি করতে বের হননি বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডোমকলের ধুলাউড়ি অঞ্চলের গোকুলচকে বাড়ি হাসিবুল শেখের। বাড়িতে মা, বাবা, দুই সন্তান ও স্ত্রী রয়েছেন। বছরের অন্যান্য সময় নিজের জেলায় ফেরি কিংবা শ্রমিকের কাজ করলেও অন্যান্যদের সঙ্গে শীতের মরশুমে কোচবিহারে ফেরি করতে যান তিনি। সেখানে লেপ, কম্বল, মাদুর সহ শীতের বিভিন্ন সামগ্রী ফেরি করেন তাঁরা। এবারেও অন্যান্যদের সঙ্গে সেখানে ফেরি করতে গিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে সাইকেলে করে ফেরি করতে বের হন তিনি। সেখানকার বক্সীরহাট থানার বোচামারি এলাকার কাছে আসতেই তাঁকে দাঁড়াতে বলে একজন। তাঁর কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। আধার ও ভোটার কার্ডে নিজের নাম-ধাম সবকিছু ঠিক থাকলেও দু’টি পরিচয়পত্রে বাবার নামের পদবি আলাদা হওয়ায় ওই ব্যক্তি গালিগালাজ শুরু করে বলে অভিযোগ। হাসিবুলকে ‘রোহিঙ্গা’, ‘বাংলাদেশি’ বলে বাঁশ দিয়ে লাগাতার মারধর ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরে জেলার নাম মুর্শিদাবাদ শোনার পরেই হেনস্তা বেড়ে যায়। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছয় স্থানীয় বক্সীরহাট থানার পুলিশ। পুলিশ যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁর দলের অন্যান্যদের সঙ্গে খবর পেয়ে থানায় যান স্থানীয় বাম নেতারা। তারপরই মঙ্গলবার রাতে থানা থেকে নিজের ভাড়া ঘরে ফিরে যান হাসিবুল। ঘটনায় তিনি ব্যাপক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, বাইরের রাজ্যে এসব হয় শুনেছি। কিন্তু দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি আমাদের রাজ্যে আমার সঙ্গেই এমনটা ঘটবে। আমার সমস্ত পরিচয়পত্র সহ সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলেও ভোটার কার্ডে বাবার নামে মাইনুদ্দিন মণ্ডল আর আধার কার্ডে বাবার নামের জায়গায় মাইনুদ্দিন শেখ রয়েছে, এই ছুতো দেখিয়ে বাংলাদেশি রোহিঙ্গা বলে মারধর করা হয়েছে। পাশপাশি ‘তোরা তো তোদের এলাকায় বাবরি মসজিদ করছিস, এখানে কেন এসেছিস’, ইতযাদি বলেও গালিগালাজ করে। বাড়িতে সবাই রয়েছে , দু’ পয়সা বাড়তি রোজগারের জন্য বাড়ি থেকে এতটা দূরে এসেছিলাম। কখনও ভাবিনি এইরকম পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।
হাসিবুল শেখের সঙ্গে সেখানে কাজ করেন একই এলাকার হাফিজুল শেখ নামের আরও এক যুবক। তিনি বলছিলেন, নিজের দেশে, নিজের রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে এইরকম অত্যাচারিত, অপমানিত হতে হচ্ছে। হাসিবুলকে তো মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে। পরে আমি সেখানকার বাম নেতৃত্বকে বিষয়টি জানালে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন। আমাদের সঙ্গে আমাদের গ্রুপেই ২৩ জন এখানে ফেরি করেন। আজ তাঁরা কেউই ভয়ে আর বের হননি।
রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, এতদিন বাইরের রাজ্যে এসব হচ্ছিল, এবারে আমাদের রাজ্যেও শ্রমিকদের ওপরে বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর অত্যাচার হচ্ছে। যতদিন প্রশাসন এই ধরনের বিষয়গুলি নিয়ে কড়া ব্যবস্থা না নিচ্ছে ততদিন এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটতেই থাকবে।
ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, আমার কাছেও এমন একটি খবর এসেছে। আমরা ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছি।