সংবাদদাতা, ডোমকল: নিকাশি ব্যবস্থার অভাবে জলে জমে পুকুরের চেহারা নিয়েছে স্কুল প্রাঙ্গণ। সেই জল পেরিয়েই ক্লাসে ঢুকছে পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তার মধ্যেই চলছে মিড ডে মিল। অভিযোগ বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র ডোমকলের ১৭ নম্বর গড়াইমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উঠছে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ।
ডোমকলের গড়াইমারী বাজারে রাস্তার ধারেই ওই প্রাথমিক স্কুল। পড়ুয়ার সংখ্যা ৩৭৫। স্কুল সূত্রের খবর, গত চার-পাঁচ বছর ধরে বর্ষা এলেই এই স্কুলে জল জমছে। রাস্তার থেকে স্কুল চত্বর অনেকটাই নিচু হওয়ায় জল জমে থাকছে। সেই জল নিষ্কাশনের কোনও ব্যবস্থাই নেই। প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছে পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। জমা জলের কারণে শিশুদের খাবার তৈরিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রাঁধুনিদের। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য মিড ডে মিল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন রাঁধুনিদের একাংশ।
এদিকে চারিদিকে ডেঙ্গির উপদ্রব বাড়ছে। এই অবস্থায় স্কুলে এভাবে জল জমে থাকলে চর্মরোগের পাশাপাশি ডেঙ্গুর আশঙ্কাও ভয় বাড়াচ্ছে অভিাবকদের। হোসেন আলি নামে এক অভিভাবক বলেন, জমা জল থেকে ভয়ানক দুর্গন্ধ ছড়ায়। মশার উপদ্রব তো আছেই। ছেলে স্কুলে আসতে চায় না। প্রশ্ন উঠছে, নিকাশির সমাধানে কেন এত গা ছাড়া মনোভাব প্রশাসনের। কেন বারবার বললেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? আর কত বছর এমন টালবাহানা চলবে?
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ রাজিবুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই এভাবে জল জমে যায়। পড়ুয়া থেকে শুরু করে সবাইকেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারপরেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ডোমকল বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস জানান, আমি পঞ্চায়েতকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। জল জমার সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার চেষ্টা চলছে।
গড়াইমারী পঞ্চায়েত প্রধান হাসানুজ্জামান মণ্ডল বলেন, এই সমস্যা আমাদের নজরে এসেছে। একটা হাইড্রেন দরকার। ২০২৩ সালেই তার জন্য টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু জমি সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হওয়ায় হাইড্রেন তৈরি করা যায়নি। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, একটা ড্রেন তৈরির জন্য এত বছর লাগছে
কেন? আর কতটা ভোগান্তি হলে ‘চেষ্টা করছি’ থেকে বাস্তব সমাধানে পৌঁছবে প্রশাসন? -নিজস্ব চিত্র