Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডোমকল: দুই বউয়েরই নামের জায়গা চাই ফর্মে, শুকুর মণ্ডলের দাবি শুনে চোখ কপালে প্রশাসনের

বাড়ি বাড়ি ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হচ্ছে বিএলওদের।

ডোমকল: দুই বউয়েরই নামের জায়গা চাই ফর্মে, শুকুর মণ্ডলের দাবি শুনে চোখ কপালে প্রশাসনের
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: বাড়ি বাড়ি ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হচ্ছে বিএলওদের। কিন্তু ডোমকলের রায়পুরের চোয়াপাড়ায় গিয়ে বিএলও নাজমুন্নেসা খাতুনের যে অভিজ্ঞতা হল, তা বোধহয় আর কারও হয়নি। 

Advertisement

চোয়াপাড়ার বাসিন্দা শুকুর মণ্ডলের দুই বউ। তিনি ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। জোড়া স্ত্রী নিয়ে এতদিন ভালোই চলছিল শুকুর মণ্ডলের সংসার। কিন্তু তাল কাটল বাড়িতে এসআইআর ফর্ম এসে পৌছতেই। গৃহকর্তার এসআইআর ফর্মে স্ত্রীর জায়গায় থাকবে কার নাম? তা নিয়েই বেঁধেছে গৃহযুদ্ধ। তবে শুধু বউরাই নয়, স্বামীও চাইছেন ফর্মে রাখা হোক দুই স্ত্রীর নাম লেখার জায়গা। তাঁদের সামলাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় বিএলও থেকে প্রশাসনিক কর্তারা।
গ্রামেরই দুই যুবতী, মমতা বিবি ও মর্জিনা বিবিকে শুকুর বিয়ে করেছেন। দুই স্ত্রীরই আলাদা ঘর, আলাদা সংসার। সবই সামাল দিচ্ছেন শুকুর। তবে প্রথম স্ত্রী মমতা স্বামীর সঙ্গে কেরলেই থাকেন। বাড়িতে এসআইআর ফর্ম হাতে পৌঁছনোর পরই এখন শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। মর্জিনার দাবি, আমরা দু’জনেই শুকুরের স্ত্রী। তাহলে ফর্মে কেবল একজনের নাম কেন থাকবে? দু’জনের নামই থাকতে হবে।
অনুরূপ দাবি তুলেছেন মমতাও। তাঁর বক্তব্য, স্ত্রী দু’জন, মর্যাদাও দু’জনের। তাহলে ফর্মে নাম যাবে একজনের? সেটা মানা যায় না। নির্বাচন কমিশন চাইলে ঘর বাড়াক, কিন্তু আমাদের দু’জনের নামই দিতে হবে। দুই দিক থেকে এমন দাবিদাওয়ার মাঝে পড়ে দিশেহারা স্বামী শুকুর মণ্ডল। কেরল থেকে ফোনে তিনি বলেন, আমি তো দুই বউকেই সমান মর্যাদা দিই। দুইজনের আলাদা বাড়িও করে দিয়েছি। তাহলে ফর্মে কেন একজনের নাম থাকবে? নাম দেওয়ার ঘর থাকলে দু’জনেরই থাকা উচিত। না হলে যে কোনও একজনই আমার ওপর রেগে যাবে। 
বিষয়টি প্রথমের দিকে হাস্যকর মনে হলেও, তাঁদের এই গৃহযুদ্ধ সামলাতে গিয়েই বিড়ম্বনায় পড়েছেন বিএলও নাজমুন্নেসা খাতুন। তিনি বলেন, এইরকম একটা সমস্যায় আমরা পড়েছি। আমরা মৌখিকভাবে বুঝিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। অন্যদিকে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সাগরপাড়ার নীতিশ সরকারের। কারণ, এখনও পর্যন্ত তাঁর হাতে পৌঁছয়নি ইনিউমারেশন ফর্ম। সাগরপাড়ায় আশ্রমপাড়ায় বাড়ি নীতিশবাবুর। পেশায় বাস চালক। তাঁর দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল, ভোটও দিয়েছেন ২০২১ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ২০২২ সালের পর হঠাৎ করেই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে যায় তাঁর নাম। তখন বিষয়টি টের পাননি। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যজুড়ে চলা এসআইআর পরিস্থিতিতে আতঙ্ক গ্রাস করেছে তাঁকে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাতে ইনিউমারেশন ফর্ম পৌঁছলেও তাঁর ফর্ম কেন এল না, এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁর মাথায়।
নীতিশবাবু বলেন, ২০০২ সালের তালিকায় নাম ছিল আমার। বাস ড্রাইভারি করি বলে মাঝেমধ্যে বাইরে থাকি। তবুও ২০২১ পর্যন্ত ভোট দিয়েছি নিয়মিত। কিন্তু নতুন তালিকায় আমার নাম নেই। বাড়ির সবার ফর্ম এলেও আমারটা এল না। এই অবস্থায় ভীষণ চিন্তা হচ্ছে। আমি চাই আমার ফর্মটা দ্রুত দেওয়া হোক। এই বিষয়ে জলঙ্গি বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন,এ নিয়ে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই। এখনো পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ