আমেরিকার মধ্যভাগে রোয়াটান নামে একটা জায়গা আছে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অফুরন্ত। সাগর জলে ভেসে বেড়ানোর সুযোগ, সাদা বাড়ির উপর ছাতার তলায় শুয়ে বসে অলস দিনযাপন সবই করা সম্ভব। কিন্তু যা এই জায়গাটাকে অন্যসব সাগরবেলার চেয়ে আলাদা করে তুলে তা হল ডলফিন। তোমাদের কেউ কেউ হয়তো ওড়িশার সাতপাড়ায় গিয়ে ডলফিন দেখে মুগ্ধ হয়েছ। কিন্তু যদি বলি মধ্য আমেরিকার হন্ডুরাসের এই জায়গায় শুধু ডলফিন দেখার সুযোগই নয়, তার সঙ্গে সাঁতার কাটার এবং তাকে ট্রেনিং দেওয়ারও সুযোগ পাওয়া যাবে! বিশ্বাস হচ্ছে না তো? কিন্তু ব্যাপারটা সত্যি। এই অঞ্চলে বটলনোজ (বোতলের মতো নাকওয়ালা) ডলফিনের বাস। একটি ঝাঁকে প্রায় ২৪-২৫টি ডলফিন থাকে। প্রায় দু’একর জায়গা জুড়ে সমুদ্র সৈকত। আর এই সৈকত ধরে খানিক দূর এগলেই খাঁড়ি পথে বাঁক নিয়ে সাগরের জল। সেখানেই ডলফিনরা ঝাঁকে ঝাঁকে ভিড় করে থাকে। ডলফিনদের উপর গবেষণাগারও রয়েছে এই অঞ্চলে। রোয়াটান মেরিন সায়েন্সের ইনস্টিটিউট রয়েছে এখানে। এই গবেষণাগারেই প্রশিক্ষণ নিয়ে পাওয়া যায় ডলফিনদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ। একজন প্রশিক্ষকের সঙ্গে এই ট্রেনিং দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। দিনটা শুরু হয় ডলফিনদের খাবার বানানো দিয়ে। তারপর তাদের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করারও সুযোগ মেলে। তারপর সারাটা দিন তাদের পাশে বসিয়ে গায়ে-পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করা যায়। তবে প্রশিক্ষকের নজরদারির মধ্যে। তোমরা খেলাচ্ছলে ডলফিনদের বিরক্ত করছ কি না, সেটাও কিন্তু নজরে রাখা হবে। ডলফিনের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে দিয়ে কোনও কাজ করানো যাবে না। প্রায় সারাদিন ডলফিনের ইচ্ছে অনুযায়ী কখনও ডাঙায় আবার কখনও জলে নামতে হবে। ডলফিন যদি চায় সারাদিন নিজের খেয়ালে থাকবে, তাহলে তাকে একটুও বিরক্ত করা যাবে না। তবে সাধারণত এমনটা হয় না। ডলফিনরা নেহাতই আলাপি প্রকৃতির, ফলে তাদের নিয়ে হইহই হচ্ছে দেখলে আহ্লাদিতই হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। চাইলে ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার খাইয়ে ডলফিনদের ঘুমপাড়ানো পর্যন্ত সব কাজেরই ভাগীদার হতে পারবে তুমি। এমন একটা দিন যদি তোমাদের ডায়েরিতেও ধরে রাখতে চাও তাহলে পাড়ি জমাতে হবে সাত সাগরের পারে আমেরিকা।



