নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার পড়ুয়াদের পাশাপাশি মিড ডে মিলের ভাগ পাবে স্কুল চত্বরে থাকা পথকুকুররাও। স্কুলের মিড ডে মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মীরা দায়িত্ব নেবেন প্রাণীগুলিকে খাওয়ানোর। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অ্যানিম্যাল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট মানেকা গান্ধীর সুপারিশে এই পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশন। রাজ্য প্রকল্প অধিকর্তার তরফে সমস্ত জেলার ডিইও’র কাছে বার্তাটি পৌঁছেছে। এর ফলে কুকুরদের প্রতি স্কুলপড়ুয়াদের সহানুভুতি এবং ভালোবাসা জন্মাবে বলে আশা শিক্ষাকর্তাদের।
আড়াই মাস আগে, র্যাবিজ বা জলাতঙ্কের বাড়বাড়ন্তের সময় সমগ্র শিক্ষা মিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তাতে পড়ুয়াদের পথকুকুরদের সামনে যেতে, তাদের উত্যক্ত করতে নিষেধ করা হয়। এছাড়াও আরও কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ ছিল বিজ্ঞপ্তিটিতে। সেই বিজ্ঞপ্তির বয়ান আপত্তিকর হিসেবে দাবি করে মানেকা গান্ধীকে চিঠি লিখেছিল রাজ্যের একটি শিক্ষা সংগঠন। তাদের বক্তব্য ছিল, এরকম নির্দেশে পথকুকুরদের প্রতি খুদে পড়ুয়াদের বিরূপ মনোভাব তৈরি হবে। ভয় এবং ঘৃণা থেকে এগুলিকে শত্রু হিসেবেই দেখতে শুরু করবে তারা। যদিও মানেকা গান্ধী সে চিঠির উত্তরে জানিয়েছিলেন, বিজ্ঞপ্তিতে তেমন আপত্তিজনক কিছু নেই। বরং শিশুদের এরকম বিপদ থেকে দূরে রাখাই উচিত। তবে কুকুরদের প্রতি সহমর্মিতা বৃদ্ধির জন্যও বেশ কিছু পদক্ষেপ করতে পারে রাজ্য সরকার। সেই প্রেক্ষিতেই মিড ডে মিলের সময় তাদের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য এপ্রিল নাগাদ একটি আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। তাতে রাজ্য সরকার সিলমোহর দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে লেখা, দুপুরের একটি নির্দিষ্ট সময় কুকুরদের খাবার দিতে হবে। এ কাজের দায়িত্বে থাকবেন মিড ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মী। এর পাশাপাশি, প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গে জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের সমন্বয় রেখে প্রাণীগুলিকে নির্বীজকরণের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি স্বাগত জানিয়েও শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, মিড ডে মিলে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য সরকারের বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। এছাড়াও অন্যান্য পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। রাজ্যের অন্তত এক চতুর্থাংশ স্কুলেই খোলা বারান্দায় মিড ডে মিল খায় পড়ুয়ারা। তাদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। কার্টুন: সুমনকুমার সিংহ