Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দ্বিগুণ লাভের আশায় সক্রিয় ব্যথার ট্যাবলেট পাচার চক্র, বাংলাদেশে পাচারের আগে উদ্ধার হাজার হাজার ট্যাবলেট!

এদেশের বৈধ ব্যথার ওষুধ এখন দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নেশার নতুন হাতিয়ার। দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় টেপান্টাডল ট্যাবলেট পাচারের রমরমা কারবারে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের।

দ্বিগুণ লাভের আশায় সক্রিয় ব্যথার ট্যাবলেট পাচার চক্র, বাংলাদেশে পাচারের আগে উদ্ধার হাজার হাজার ট্যাবলেট!
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: এদেশের বৈধ ব্যথার ওষুধ এখন দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নেশার নতুন হাতিয়ার। দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় টেপান্টাডল ট্যাবলেট পাচারের রমরমা কারবারে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। লাগাতার পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ টেপান্টাডল উদ্ধার হলেও কোনোভাবে থামছে না এই পাচারচক্র। গত এক মাসে গঙ্গারামপুর মহকুমার হরিরামপুর, বংশীহারি ও গঙ্গারামপুর থানা এলাকায় একাধিক অভিযানে হাজার হাজার এই ট্যাবলেট বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবুও পাচারের শিকড় কতটা বিস্তৃত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ জুলাই হরিরামপুর থানা এলাকায় প্রায় চার হাজার টেপান্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। এরপর ২৭ জুলাই গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ প্রায় ১৫ হাজার ও ৬ অগাস্ট বংশীহারি থানার পুলিশ আরও প্রায় চার হাজার ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, মূলত মালদহ জেলা থেকে এই ওষুধ সংগ্রহ করে দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকায় এনে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।

Advertisement

তদন্তকারীদের দাবি, কাফ সিরাপ, ইয়াবা বা ব্রাউন সুগারের মতো মাদক পাচারে পুলিশের কড়া নজরদারির জেরে এখন পাচারকারীরা কৌশল বদলেছে। বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বৈধ ব্যথানাশক টেপান্টাডলকে। ভারতে একটি টেপান্টাডল ট্যাবলেটের পাতার দাম প্রায় ৩০০ টাকার মধ্যে হলেও সীমান্তের ওপারে তার দাম দ্বিগুণের বেশি। সেই লাভের আশাতে এই ওষুধকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন পাচারচক্র। আইনি জটিলতা পাচার রোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেপান্টাডল ভারতে বৈধ ওষুধ হওয়ায় শুধুমাত্র ওষুধ উদ্ধারের ভিত্তিতে পুলিশ সরাসরি মাদক আইনের অধীনে মামলা রুজু করতে পারছে না। এ ধরনের ঘটনায় ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস আইন অনুযায়ী তদন্তের মূল দায়িত্ব রাজ্য ড্রাগস কন্ট্রোল দফতরের। ফলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে আইনি সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ টেপান্টাডল পাচারকারীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ওষুধের ব্যাচ নম্বর ধরে স্টকিস্ট থেকে কোন খুচরো ওষুধের দোকানে সেগুলি সরবরাহ হয়েছিল, সেই উৎস খুঁজে বের করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ড্রাগস কন্ট্রোল দফতরকে। ইতিমধ্যে পুলিশ ও ড্রাগস কন্ট্রোল যৌথভাবে জেলার ওষুধের দোকানগুলিকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ধরনের ওষুধ বিক্রি না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেট বাইরের জেলা থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরে ঢুকছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
জেলা ড্রাগস কন্ট্রোল দফতরের এক আধিকারিক বলেন, জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই পাচার রোধে কাজ করতে হবে। দফতরে কর্মী সংকট থাকায় তদন্তে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। জেলার সমস্ত ওষুধের দোকানকে সচেতন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো জেলা থেকে পাচারের সূত্র মিললে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে বর্তমানে একাধিক জায়গা থেকে এই ওষুধ আসছে। তাই পুলিশের সঙ্গে যৌথ ভাবে গোটা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ