নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার সবচেয়ে সব সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান আসানসোল জেলা হাসপাতাল। সাড়ে সাতশো শয্যার হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও স্টাফ নেই। গভীর সংকট উপলব্ধি করে রবিবার আসানসোল জেলা হাসপাতাল থেকেই স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে ফোন করলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি নিজে বলার পাশাপাশি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে স্বাস্থ্যসচিবের কথা বলিয়ে দেন।
স্বাস্থ্যসচিবকে জানানো হয়, নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট নেই। চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি রয়েছে। দ্বিতীয়ত, আসানসোল জেলা হাসপাতালে নতুন একটি শিশু ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে। তার ইলেকট্রিক ও এসি বসানোর জন্য এক কোটি ১০ লক্ষ টাকা দ্রুত প্রয়োজন। তৃতীয়ত, জুনিয়র ডাক্তারদের এই হাসপাতাল থেকে ডিএনবি অর্থাৎ ডিপ্লমা কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। অর্থোপেডিক বিভাগেও যেন জেলা হাসপাতালের জন্য ডিএনবি সিট দেওয়া হয়।
এই সমস্যাগুলির পাশাপাশি হাসপাতাল সুপার তপন বিশ্বাস মন্ত্রীকে বলেন, আসানসোল পুরসভা নিয়মিত হাসপাতাল থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করছে না। অগ্নিমিত্রা সেখান থেকেই পুর আধিকারিককে ফোন করে ধমক দেন। তপনবাবু আরও বলেন, হাসপাতালে ৪৮ জন সাফাই কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁদের খুব প্রয়োজন। এছাড়া ১৪ জন নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন। অগ্নিমিত্রা এই সমস্যা মেটানোরও প্রতিশ্রুতি দেন। জল সংকট নিয়েও জেলাশাসককে জানাবেন বলেন।
স্বাস্থ্যসচিবকে ফোনে জেলা হাসপাতালের সুনাম করে মন্ত্রী বলেন, এখন এখানে এসে বুঝতে পারবেন না এটা সরকারি হাসপাতাল না বেসরকারি হাসপাতাল। হাসপাতাল যথেষ্ট পরিষ্কার রাখা হচ্ছে।
এদিন হাসপাতালে একাধিক কর্মসূচি নিয়ে হাজির হন মন্ত্রী। প্রথমেই আরজি কর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ‘অভয়া’র স্মৃতির উদ্দেশে নিরবতা পালন করা হয়। তারপর অভয়াকে নিয়ে তাঁর লেখা কবিতা পাঠ করেন অগ্নিমিত্রা। নিজে মা হিসাবে যে অভয়ার বিচারের অপেক্ষা করছেন, তা কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেন। এরপরই স্বাস্থ্যদপ্তরের টিবি মুক্ত ভারত গড়ার কর্মসূচিতে অংশ নেন। এই প্রকল্পটির নাম নিক্ষয় মিত্র। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি একজন টিবি রোগীর বিশেষ পুষ্টিযুক্ত খাবারের দায়িত্ব নিতে পারেন। ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা মাসে খরচ করলেই টিবি আক্রান্ত রোগীর সেই খাবার পাওয়া যাবে। অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোলের মানুষের উদ্দেশে আহ্বান করেন, তাঁরা যেন একজন, দু’জন করে টিবি রোগীর খাবারের দায়িত্ব দেন। জেলায় ১৬০০ টিবি আক্রান্ত রোগী রয়েছে। জেলা হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যদপ্তরের অফিসে যোগাযোগ করলে সহজেই তাঁরা টিবি রোগীর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। এছাড়া হাসপাতালের একটি ক্যান্সার ডে কেয়ার ওয়ার্ডের সূচনা করেন মন্ত্রী। এর ফলে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি হতে হবে না।
অগ্নিমিত্রা বলেন, ১৫ বছর হাসপাতালের কোনো নিয়োগ হয়। সঠিক পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। আমার বিধায়ক তহবিল থেকে তিনটে ওয়ার্ডে এসি বসাব।