


সংবাদদাতা, বহরমপুর: তীব্র গরমের কারণে জেলায় ডায়ারিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এই সময় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনাও বেশি থাকে বলেই চিকিৎসকদের দাবি। খুবই প্রয়োজন ছাড়া দুপুরে বাড়ির বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বাড়ির বাইরে বেরতে হলে অবশ্যই ছাতা নিতে বলছেন তাঁরা। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত দুপুরের দিকে বাড়ির বাইরে না বেরনোই ভাল। শরীর সুস্থ রাখতে প্রচুর পরিমাণে জলের সঙ্গে অবশ্যই ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন(ওআরএস), পরিবর্তে লেবু, নুন, চিনি জলের মিশ্রন ঘনঘন খেতে হবে। কারণ আপেক্ষিক আর্দ্রতা বাড়ায় প্রচুর পরিমাণে জল ঘামের মাধ্যমে অনবরত শরীর থেকে নিসৃত হচ্ছে। হিট স্ট্রোক এড়াতে মাথা ঘুরলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জলে মাথা ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে জেলাবাসী কার্যত কাহিল হয়ে পড়েছেন। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। শনিবার বিকেলে এক পশলা বৃষ্টির পর কিছু স্বস্তি নামে। তবে রবিবার সকাল থেকেই ফের অস্বস্তি বাড়তে শুরু করে। এদিন তাপমাত্রার পারদ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৩ শতাংশ। প্রচুর পরিমাণে ঘাম হওয়ায় প্রত্যেক মানুষের শরীরে অস্বস্তির পাশাপাশি ক্লান্তিভাব বাড়ছে। তবে ডাইরিয়ার প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে।
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন ৫-৬ জন ডাইরিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আতঙ্কের কারণ নেই। রোগী যেমন আসছেন পাশাপাশি প্রচুর মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেও যাচ্ছেন।
এই মূহূর্তে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। অনাদিবাবু বলেন, এই সময় হিট স্ট্রোকের প্রবল সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরনো উচিত নয়। নিতান্তই বেরোতে হলে ছাতা নেবেন। মাথা ঘুরছে মনে হলে চোখে, মুখে ঠান্ডা জল দিন। মাথা ধুয়ে নিন। তাতে হিট স্ট্রোক এড়ানো যাবে।