নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আর বর্ধমানের উপর ভরসা নয়। এবার রক্তের পৃথকীকরণের ইউনিট হবে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই। প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা খরচে অত্যাধুনিক যন্ত্র বসেছে মেডিকেলে। তারসঙ্গে পুরানো বিল্ডিং থেকে ব্লাড ব্যাংক সরছে নতুন আউটডোর ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে। শীঘ্রই সেখান থেকে পরিষেবা চালু হবে। এব্যাপারে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায় বলেন, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে রক্তের পৃথকীকরণ করতে হয়। তারপর সেই রক্ত রোগীদের শরীরে দেওয়া হয়। নতুন এই ইউনিট খোলার জন্য দু’টি যন্ত্র বসছে। একটি যন্ত্র আগেই এসেছে। আরএকটি যন্ত্র আসছে। নতুন এই ইউনিট চালু করতে প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে যন্ত্র কিনতে হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের তরফেই যন্ত্রগুলি কেনা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্তাল্পতা, ডেঙ্গু, থ্যালাসেমিয়া প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রের রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই আরবিসি সেল, প্লাজমা, সিরাম প্রভৃতি দিতে হয়। রক্ত সংগ্রহের পর তা পৃথক করার পরিকাঠামো আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল কর্তৃপক্ষের তরফে রক্ত পাঠাতে হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে রক্ত পৃথক করে আনা হয় আরামবাগে। তারপর তা রোগীদের শরীরে দেন চিকিৎসকরা। এই কাজে সময় লাগে। তারসঙ্গে অতিরিক্ত কর্মী দিয়ে কাজ করাতেও নাজেহাল হতে হয় মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে। এরপর আরামবাগ মেডিকেলেই রক্তের পৃথকীকরণ চালু হচ্ছে। হাসপাতালের ভিতরে নতুন আউটডোর ভবন তৈরি হয়েছে। সেই বিল্ডিংয়েরই গ্রাউন্ড ফ্লোরে ব্লাড সেন্টার রয়েছে। কিন্তু, তা এতদিন চালু হয়নি। নতুন ব্লাড ব্যাংক প্রস্তুত করতে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। তারপর পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে ব্লাড ব্যাংক খুলতে ছাড়পত্র দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। সেইমতো হাসপাতালের পুরনো বিল্ডিংয়ের দোতলায় থাকা ব্লাড ব্যাংক স্থানান্তর হতে চলেছে।



