Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

রক্তের পৃথকীকরণ করতে ইউনিট বসবে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন রক্তের পৃথকীকরণ ইউনিট চালু হচ্ছে। এতে রোগীদের সুবিধা হবে এবং সময় সাশ্রয় হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

রক্তের পৃথকীকরণ করতে ইউনিট বসবে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
  • ১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আর বর্ধমানের উপর ভরসা নয়। এবার রক্তের পৃথকীকরণের ইউনিট হবে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই। প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা খরচে অত্যাধুনিক যন্ত্র বসেছে মেডিকেলে। তারসঙ্গে পুরানো বিল্ডিং থেকে ব্লাড ব্যাংক সরছে নতুন আউটডোর ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে। শীঘ্রই সেখান থেকে পরিষেবা চালু হবে। এব্যাপারে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায় বলেন, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে রক্তের পৃথকীকরণ করতে হয়। তারপর সেই রক্ত রোগীদের শরীরে দেওয়া হয়। নতুন এই ইউনিট খোলার জন্য দু’টি যন্ত্র বসছে। একটি যন্ত্র আগেই এসেছে। আরএকটি যন্ত্র আসছে। নতুন এই ইউনিট চালু করতে প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে যন্ত্র কিনতে হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের তরফেই যন্ত্রগুলি কেনা হয়েছে।  হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্তাল্পতা, ডেঙ্গু, থ্যালাসেমিয়া প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রের রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই আরবিসি সেল, প্লাজমা, সিরাম প্রভৃতি দিতে হয়। রক্ত সংগ্রহের পর তা পৃথক করার পরিকাঠামো আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল কর্তৃপক্ষের তরফে রক্ত পাঠাতে হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে রক্ত পৃথক করে আনা হয় আরামবাগে। তারপর তা রোগীদের শরীরে দেন চিকিৎসকরা। এই কাজে সময় লাগে। তারসঙ্গে অতিরিক্ত কর্মী দিয়ে কাজ করাতেও নাজেহাল হতে হয় মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে। এরপর আরামবাগ মেডিকেলেই রক্তের পৃথকীকরণ চালু হচ্ছে। হাসপাতালের ভিতরে নতুন আউটডোর ভবন তৈরি হয়েছে। সেই বিল্ডিংয়েরই গ্রাউন্ড ফ্লোরে ব্লাড সেন্টার রয়েছে। কিন্তু, তা এতদিন চালু হয়নি। নতুন ব্লাড ব্যাংক প্রস্তুত করতে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। তারপর পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে ব্লাড ব্যাংক খুলতে ছাড়পত্র দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। সেইমতো হাসপাতালের পুরনো বিল্ডিংয়ের দোতলায় থাকা ব্লাড ব্যাংক স্থানান্তর হতে চলেছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আরামবাগ মহকুমা ছাড়াও বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলি জেলার একাংশ থেকেও বহু রোগী রক্তের জন্য আসে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের তরফেও রক্ত চাওয়া হয়। অথচ রক্তের পৃথকীকরণ করার ব্যবস্থা ছিল না। নতুন বিল্ডিংয়ে রক্ত পৃথক করার যন্ত্র বসতে চলেছে। তারফলে দুর্ভোগ কমবে বলেই আশা মেডিকেল কর্তৃপক্ষের। 
পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়নি। তারফলে গরিব রোগীদের নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। আমাদের সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেইজন্য হাসপাতাল সংক্রান্ত নানা উন্নয়ন হবে। আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তের পৃথকীকরণ ইউনিটের প্রয়োজন ছিল। শীঘ্রই সেটি চালু হলে সমস্যা অনেকটাই মিটবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ