Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কাটাছেঁড়া থেকে জীবাণু সংক্রমণ, হোমিয়োপ্যাথির নতুন ওষুধের আবিষ্কার!

নতুন হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আবিষ্কার হল কাটাছেঁড়া থেকে জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে। গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন ডঃ সমাদ্দার। বিস্তারিত পড়ুন।

কাটাছেঁড়া থেকে জীবাণু সংক্রমণ, হোমিয়োপ্যাথির নতুন ওষুধের আবিষ্কার!
  • ১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সাধারণ কাটাছেঁড়া থেকে মারাত্মক জীবাণু সংক্রমণ— আবিষ্কার হল নতুন হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ। এই ওষুধের মূল অনু বা ন্যানো পার্টিকল একিনেশিয়া এবং রুটা— এই দু’ধরনের প্রচলিত হোমিয়োপ্যাথিক মাদার টিংচার থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে এটি। দু’টি মাদার টিংচার সিলভার নাইট্রেটে পৃথকভাবে প্রয়োগ করে গবেষণার পর এই ন্যানো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে। ই-কোলাই ও সেফাইলোকক্কাস, এই দুই বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, বাজার চলতি নিওমাইসিন, পলিমিক্সিন বি, বেসিট্রাসিন, হাইড্রোজেল, সিলভার জেল প্রভৃতি আধুনিক ওষুধের জীবাণুনাশক মলম বা জেলের থেকেও বেশি কার্যকর হবে এই নতুন হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ। গবেষণার নেপথ্যে আছেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, দুর্গাপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, খড়দহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টিনারি কলেজ সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বাঙালি চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং ছাত্রছাত্রীরা। ডঃ অস্মিতা সমাদ্দার, প্রফেসর শিশির নন্দী প্রমুখ প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানী-গবেষকদের পাশাপাশি এই গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন উৎসাহী ইন্টার্ন ছাত্রছাত্রীরাও। চমকপ্রদ বিষয় হল, এটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এলসেভিয়ার গ্রুপের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং জার্নালে। ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ১৩.২। সিনিয়র হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসকরা মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে ভারতে এই পরিমাণ ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টরের জার্নালে স্বকীয় হোমিয়োপ্যাথিক গবেষণা জায়গা পেয়েছে! 

Advertisement

কম্পিউটার, এআই, মাইক্রোব, ব্যাকটেরিয়ার জীবন রক্ষাকারী প্রোটিন, ইঁদুর সহ সব ধরনের মডেলের উপরেই যাচাই হয়েছে সিলভার সমৃদ্ধ নয়া ‘অনু ওষুধ’টির সার্থকতা। বিভিন্ন জীবাণুর ডিএনএ ধ্বংস করার ক্ষমতা কতটা থাকলে কোনো অণুকে জীবাণুনাশক ‘ওষুধ’ বলা যেতে পারে, আবিষ্কারকালে গবেষক দল এমন বৈজ্ঞানিক ছকও তৈরি করেছে।
সূত্রের খবর, জেল আকারে এটি বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দাম হতে পারে বাজার চলতি বিভিন্ন জীবাণুনাশক মলম বা জেলের ১০ ভাগের এক ভাগেরও কম! 
উদ্ভাবনকারী দলটির তরফে প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর তথা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ  সমাদ্দার বলেন,  যে পদ্ধতিতে আমরা এই ওষুধ আবিষ্কার করেছি, তা দিকপাল হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানী প্রফেসর আনিসুর রহমান খোদা বক্সের। তিনি ২০১৩ সালে অ্যান্টি ক্যান্সার হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নিয়ে গবেষণার সময় এই পদ্ধতির আশ্রয় নেন। নতুন ওষুধের পেটেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাজারে আনার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তাও চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ