সংবাদদাতা, ঘাটাল: ভোর ৪টা থেকে রোগী দেখানোর জন্য লম্বা লাইন, আর আউটডোরে মাসেরোগীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় সাড়ে তিন হাজারে! না, এটা কোনও মহকুমা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের আউটডোরে রোগী দেখার পরিসংখ্যান নয়। ঘাটাল ব্লকের বীরসিংহ গ্রামীণ হাসপাতালের হোমিওপ্যাথি বিভাগের আউটডোরে প্রত্যেক দিন রোগী দেখানোর ভিড় দেখলে অনেককেই অবাক হয়ে যাবেন। বীরসিংহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রশান্ত রায় বলেন,একসময় এই হাসপাতালের হোমিওপ্যাথি বিভাগ ছিল কার্যত রোগী শূন্য। প্রত্যেক দিন দু-একটা করে মাসে ৪০-৪২ জন রোগী যেতেন, তাও কেউ কেউ চেনাপরিচিতের পরামর্শে। এলাকায় তখন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার উপর খুব একটা ভরসা ছিল না। অথচ গত তিন বছরে সেই ছবিটা একেবারে বদলে দিয়েছেন ওই হাসপাতালের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক শ্রীমন্ত খামরুই। তাঁর কাছে রোগী দেখানোর জন্য ভোর ৪টা থেকে হাসপাতালের গেটে লাইন দেন রোগীরা। শ্রীমন্তবাবু বছর তিনেক আগে তিনি ওই হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই হোমিওপ্যাথি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে তিন হাজারের আশেপাশে রোগী চিকিৎসার জন্য আসছেন। শুধু ঘাটাল ব্লক নয়, ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন ব্লক থেকে তো বটেই তাছাড়াও খড়্গপুর, গড়বেতা, এমনকি হাওড়া, হুগলি থেকেও মানুষ আসছেন শ্রীমন্তবাবুর কাছে। বহু দূরারোগ্য ব্যাধিও তিনি সুস্থ করেছেন বলে দাবি রোগীদের। কারও হাঁপানি, কারও পুরনো চর্মরোগ, কেউ বা হার্ট, কিডনি বা লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন তাঁরা অনেকেই সুস্থ হয়েছেন। হৃদরোগে ভুগছিলেন ঘাটাল ব্লকের খাসবাড়ের বাসিন্দা সুপর্ণা বর্মন। অনেক চিকিৎসক তাঁকে বাইপাসের পরামর্শও দিয়েছিলেন। সুপর্ণা বলেন, বেশ কয়েক মাসের চিকিৎসায় আমি অনেকটাই সুস্থ। কয়েক মাসের চিকিৎসায় ১.৭৫ থেকে এক ধাক্কায় ক্রিয়েটিনিন নিয়ন্ত্রণে এসে ১.১ হয়েছে চন্দ্রকোণার সাটিতেঁতুলের বাসিন্দা সমর মণ্ডলের। তাঁর কথায়, হোমিওপ্যাথিতে এত ভালো ফল পাব ভাবতে পারিনি।



