নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, বহরমপুর: চিকিৎসা শুরুর পর রোগীর মৃত্যুতে হাসপাতালে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল মৃতের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। অশ্রাব্য গালিগালাজের পাশাপাশি কর্তব্যরত চিকিসককে হেনস্তা ও তাঁর উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে মৃতের তিন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে বহরমপুর থানার পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম অনিশ মণ্ডল, আপন মণ্ডল ও রাকেশ মণ্ডল। প্রত্যেকের বাড়ি বেলডাঙা থানার সারগাছি এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেশ উত্তেজনা ছড়ায়।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সারগাছির বাসিন্দা বছর বাহাত্তরের সনাতন মণ্ডলকে তাঁর পরিবারের লোকজন সোমবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চিকিৎসাও শুরু করেন। কিন্তু, তা সত্ত্বেও সনাতনবাবু মারা যান। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসার গাফিলতির কারণেই সনাতনবাবুর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিজনরা। তারা ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপর হামলা চালাতে যায় তারা। স্থানীয় ক্যাম্পের পুলিস সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়েই বহরমপুর থানার পুলিস সেখানে পৌঁছয়। তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি অনাদি রায়চৌধুরী থানায় লিখিত অভিযোগ জানালে পুলিস মামলা রুজু করে তাদের গ্রেপ্তার করে। বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, এমএসভিপির অভিযোগের ভিত্তিতে, তিনজনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মৃতের মেয়ে বলেন, বাবার মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারের লোকজন স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু, কেউ চিকিৎসকের গায়ে হাত দেয়নি। আর সরকারি সম্পত্তির কোনও ক্ষতি করেনি। তারপরেও পুলিস তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফাইল চিত্র



