নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: জুনিয়র ডাক্তাররাই সামলাচ্ছেন হাসপাতালের বহির্বিভাগ। বহু ক্ষেত্রেই দেখা পাওয়া যাচ্ছে না সিনিয়র ডাক্তারদের। সিনিয়র ডাক্তাররা যদিওবা আসেন সেটা আউটডোর খোলার দীর্ঘক্ষণ পর। সিনিয়র ডাক্তারদের অনেকে নির্দিষ্ট সময়েই হাসপাতালে আসেন। তবে, তাঁদের কেউ কেউ আবার বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়েই ফের হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। অর্থাৎ, খাতায় কলমে তাঁরা হাসপাতালেই রয়েছেন। কিন্তু রোগী দেখছেন প্রাইভেট চেম্বারে কিংবা শহরেরই কোনও নার্সিংহোমে। সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী।
বিধায়ক বলেন, সাধারণ মানুষের কথা ভেবে স্বাস্থ্য খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একশ্রেণির চিকিত্সকের এই উদাসীনতা কেন? চিকিত্সকরা তাঁদের কর্তব্য ঠিকমতো পালন করছেন না। সময়ে আউটডোরে আসছেন না। আমার কাছে এনিয়ে প্রচুর মানুষের অভিযোগ আসছে। সুপারকে বিষয়টি জানিয়েছি।
এই অভিযোগ যে একেবারেই মিথ্যা নয় তা স্বীকারও করছে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধিকারিকের স্বীকারোক্তি, ‘কিছু চিকিৎসকের যথাসময়ে বহির্বিভাগে না যাওয়ার প্রবণতা আগেই নজরে এসেছে। সকলকে সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু কেউই নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। প্রত্যেকেরই কোনও না কোনও প্রভাবশালী যোগ রয়েছে। ফলে সেইসব চিকিত্সকের বিরুদ্ধে হাসপাতালও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে না।’
হাসপাতাল সূত্রের খবর, হাসপাতালে বহির্বিভাগ খোলার কথা সকাল ৯টায়। অভিযোগ, অধিকাংশ দিনই তা খোলা হয় নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে। অনেক বহির্বিভাগে আবার সিনিয়র ডাক্তারদের দেখাই পাওয়া যায় না। শুধু তাই নয়, সিনিয়র ডাক্তাররা অনেক সময় নিয়মিত ওয়ার্ডে গিয়ে রোগী দেখেন না বলে অভিযোগ। যদিও সেইসময় বেসরকারি চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানে গেলে সেইসব চিকিসকের দেখা মেলে। এভাবে হাসপাতাল চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে কর্তৃপক্ষ। আউটডোরে লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। ক্ষোভ বাড়ছে রোগীদের।
এনিয়ে সরব হয়েছে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের তৃণমূল পরিচালিত কর্মচারী সংগঠন। বুধবার এনিয়ে হাসপাতাল সুপার, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং জেলাশাসকের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রাজীব দাস বলেন, চিকিত্সকরা সময়ে হাসপাতালে না আসার খেসারত দিচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। শুধু তাই নয়, বহু নার্স নিজেদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন না। রোগী কিংবা রোগীর পরিজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন। বিষয়টি লিখিত আকারে প্রশাসনের সর্বস্তরে জানিয়েছি। হাসপাতাল সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ বলেন, সুপার এককভাবে যদি সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারেন তাহলে তো হয়েই যেত। তবে, প্রত্যেকে যদি হইচই না করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলেই হাসপাতালের শ্রীবৃদ্ধি হবে।
বিরোধীদের প্রশ্ন, চিকিত্সকদের হাসপাতালের বহির্বিভাগে সময়ে না আসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্তমান বিধায়ক বিকাশবাবু এর আগে দীর্ঘদিন রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন। এই সমস্যার সমাধান হল না কেন? নিজস্ব চিত্র