নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ফ্ল্যাটবাড়ির সিকিউরিটি গার্ডের হাতে নির্যাতিত হল ১২ বছরের এক বালিকা। শনিবার গভীর রাতে বহরমপুর থানায় পকসো ধারায় মামলা রুজু হয় অভিযুক্ত নিরাপত্তা রক্ষীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত নিরাপত্তা রক্ষীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম সুজয় দত্ত। বাড়ি বহরমপুরের হরিদাসমাটি এলাকায়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বহরমপুরের নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ওই নাবালিকা। তার বাবা চিকিৎসক। বহরমপুর শহরের একটি অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটে বসবাস ওই চিকিৎসকের পরিবারের। সেই ফ্ল্যাটের ছাদে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলেই অভিযোগ। ছাদের উপরে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের শখের বাগান রয়েছে। সেই বাগানের এক কোণায় নিয়ে গিয়ে অন্ধকারে ওই নাবালিকার গোপনাঙ্গে হাত দেওয়া হয় এবং বার বার ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিস। কোনওরকমে নাবালিকা সিকিউরিটি গার্ডের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে আসে। ফ্ল্যাটে নিজের ঘরে ঢুকে গিয়ে বাবাকে ঘটনার কথা জানায়। রাতেই থানার দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার বাবা। অভিযোগ দায়ের হতেই বহরমপুর থানার পুলিস অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে।
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, আমরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে তল্লাশি শুরু করি। অভিযুক্ত সুজয় টোটোয় চেপে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তাকে আমরা গ্রেপ্তার করে রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার বিশেষ পকসো আদালতে পাঠাই।
ওই ফ্ল্যাটবাড়ির এক আবাসিক বলেন, মেয়েটি কাল রাতে একা লিফটে ওঠার পর ওকে জোর করে ছাদে নিয়ে গিয়ে অসভ্যতামি করে ওই সিকিউরিটি গার্ড। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছি। সিকিউরিটির ভালোই বয়স হয়েছে। সব দিক দেখেই তাকে আমরা কাজে নিয়েছিলাম। এরকম করবে আমরা কখনওই ভাবিনি। প্রশাসনকে অনুরোধ, ওর যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।
অপর এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, আমি দিনের বেলায় ডিউটি করি। আমি চলে যাওয়ার পর ও নাইট শিফটের দায়িত্ব নেয়। তবে সুজয় প্রায় ছ’ বছর ধরে এখানে কাজ করছে। আগে কখনও এমন কোনও ঘটনা শুনিনি। ধৃত নিরাপত্তারক্ষীকে আদালতে নিয়ে যাচ্ছে পুলিস।-নিজস্ব চিত্র