সংবাদদাতা, ডোমকল: গোরু, মাদক, ইঁদুরমারা বিষের পর বাংলাদেশে পাচারের তালিকায় নবতম সংযোজন ব্যথার ওষুধ। ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ওপার বাংলায় এখন জনপ্রিয় ভারতীয় ব্র্যান্ডের ট্যাপেন্টাডল গোত্রের ব্যথার ওষুধ। ওপার বাংলায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় সীমান্ত গলে এপার থেকে সে দেশে ঢুকছে ভারতীয় ব্রান্ডের এই ব্যথানাশক। চোরাপথে ‘শিডিউল এইচ-ওয়ান’ মানের ড্রাগস পৌঁছে যাচ্ছে ওপার বাংলার মাদক কারবারিদের কাছে। ভারতীয় বাজারে এত কড়াকড়ি থাকার পরেও কীভাবে ওপার বাংলায় পাচার হচ্ছে এই ব্যথার ওষুধ, তা নিয়ে মাথাব্যথা বাড়ছে পুলিস প্রশাসনের। একটু খোঁজ নিতেই জানা গেল, ওই ব্র্যান্ডের ব্যথানাশক ওষুধটির মূল উপাদান হল ট্যাপেন্টাডল। ট্যাপেন্টাডল সরাসরি অপিওয়েড রিসেপটরের-এর ওপর কাজ করে, যেটা শরীরে ব্যথা কমানোর সিগন্যালকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্তিষ্কে গিয়ে ব্যথার অনুভূতি কমায়। তবে এই রিসেপ্টরগুলোতে বেশি সময় ধরে কাজ করলে মস্তিষ্কে আনন্দ বা ঘোরের অনুভূতি তৈরি হয়, যা মানুষকে এই ওষুধ আবার নিতে প্রলুব্ধ করে। এভাবেই তা মানুষকে ধীরে ধীরে আসক্ত করে ফেলে। নেশার ঝুঁকি থাকায় ওষুধটির অপব্যবহার রোধ করার জন্য ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ট্যাপেন্টাডলকে শিডিউল এইচ-ওয়ান তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে এই ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ে রয়েছে একাধিক কড়া নিয়ম। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকরাই ওই ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখতে পারবেন। পাশপাশি সেখানে তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, ফার্মেসিগুলিকেও বিক্রয়ের সময় রোগী ও চিকিৎসকের তথ্য সহ একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে। প্রেসক্রিপশনের একটি প্রতিলিপিও রাখতে হবে। পাশপাশি ওষুধের প্যাকেজিংয়ে লাল রঙের ‘আর এক্স’ চিহ্ন এবং সতর্কবার্তা থাকতে হবে। এই নিয়মাবলী না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নিদান রয়েছে। ফার্মেসির লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ওষুধ বিক্রি ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে এত কড়াকড়ি থাকলেও কীভাবে তা পাচারকারীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।



