সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মানুষকে সুস্থ করার দায়িত্ব যাদের, সেই চিকিৎসকদের আবাসনই রোগগ্রস্ত। ঝোপঝাড় জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে চিকিৎসকদের বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট আবাসনটি। মাথার উপর চাঙর খসে পড়ছে। দেওয়ালের পলেস্তরাও খসে পড়ছে। ছাদ থেকে চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল। দরজা জানলা ভাঙা। সেখানেই কোনওরকমে মাথা গুঁজে দিন যাপন করছেন নবদ্বীপ হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎকরা। এর উপর আবার সাপের আতঙ্ক আবাসনের চারিদিকে। সবদিক থেকে তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তবে এরই মধ্যে খানিক আশার কথা শুনিয়েছেন নবদ্বীপ ষ্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার অনঘ বন্দ্যোপাধ্যায়।
নবদ্বীপ ষ্টেট জেনারেল হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দক্ষিণ এবং নতুন ভবনের পূর্ব দিকে চিকিৎসকদের এই আবাসনটির অবস্থান। তিনতলা এই আবাসনে পাঁচজন চিকিৎসকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এক তলায় দুটি, দোতলায় দুটি এবং তিন তলা একটি পরিবারের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ৪০ বছরের পুরনো এই আবাসনটির প্রায় ১০ বছর ধরে কোনও সংস্কার হয়নি। স্বাভাবিক কারণে জঙ্গল এবং আগাছায় ভরে গিয়েছে চারিপাশ। আগাছা পরিষ্কারের কোন সরকারি উদ্যোগ নেই । আর এই আগাছা জঙ্গলেই বাড়ছে বিষধর সাপের বাসা। সেইসব সাপ ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, একদিন ঘুম থেকে উঠে ঘরের মধ্যে চন্দ্রবোড়া সাপ দেখতে পাই। তারপর থেকে ওই আবাসনে বসবাস করতে দিতে চাইছেনা পরিবারের লোকজন। আমি অন্যত্র বাড়ি ভাড়া করে চলে এসেছি।
এইরকম শ্বাপদসংকুল পরিবেশে থেকে চিকিৎসা করতে হয় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের। তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে দিনদিন। আগে এই হাসপাতালে আগে পাঁচজন চিকিৎসক থাকতেন। এখন সেখানে রয়েছেন মাত্র দুজন। ডাক্তারবাবুরা ডিউটির সময় ছাড়া অন্য সময় আবাসনে বিশ্রাম নেন। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে চিকিৎসকরা ওখানে থাকতে পারলে, চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের আবাসনের হাল খারাপ হওয়ার জন্য ডাক্তারবাবুরা থাকতে চাইছেন না বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেরই অভিমত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক চিকিৎসক বলেন, বর্ষায় আমরা ওই আবাসনে নিরাপদ বোধ করছিনা।
হাসপাতালের সুপার বলেছেন, বিগত ৭-৮ বছর ধরে ডাক্তারদের কোয়ার্টারের কোন সংস্কার হয়নি। সম্প্রতি পূর্ত দপ্তর থেকে বিল্ডিং পরিদর্শন করে গিয়েছেন। এমনকী বিল্ডিং এর স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গিয়েছেন। পূর্ত দপ্তর থেকে সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এস্টিমেট এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই হয়তো সংস্কারের কাজ শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারবাবুদের আবাসনটির হাল ফিরবে বলে আসা করা যায়।