নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভাতার গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে নবাবহাটের নার্সিংহোমে রোগী পাঠানোর ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার করেছেন চিকিৎসক। সেই রিপোর্ট জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক ভুল স্বীকার করে নেওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতে চাইছে। তাতেই স্বাস্থ্য দপ্তরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই বলছেন, ভুল স্বীকার করলেই কি সাতখুন মাফ হয়ে যায়? অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে র্যাকেট ভাঙবে না। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, রিপোর্ট স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হবে। তারপর কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা দেখা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালে নতুন এসেছেন। কিন্তু নার্সিংহোমে রোগী পাঠানোর র্যাকেট বহুদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। চিকিৎসকদের অনেকেই নবাবহাট বা খোসবাগানের নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সেখানে অপারেশন করে তাঁরা বাড়তি ফায়দা তুলছেন। ভাতারের বাসিন্দা তথা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে পরিষেবা দিতে চাইছেন। আর একশ্রেণির চিকিৎসক নিজেদের ফায়দা তোলার জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষতি করছেন। শুধু ওই চিকিৎসক নন, আরও অনেকেই এই র্যাকেটে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা রোগীদের একশ্রেণির চিকিৎসক স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে কিনা জানতে চান। কার্ড থাকলে তাঁরা নির্দিষ্ট নার্সিংহোমে যাওয়ার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা রোগীদের অপারেশন করে তাঁরা কমিশন পান। ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালের উপর বিস্তীর্ণ এলাকার রোগীরা নির্ভরশীল। পরিকাঠামো উন্নত হওয়ায় এই হাসপাতালের উপর তাঁরা ভরসা করেন। কিন্তু সেখানেই ঘুঘুর বাসা তৈরি হওয়ায় রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। ঘুঘুর বাসা ভাঙার জন্য তৃণমূলও পথে নেমেছে। কয়েকদিন আগে ঘটনার তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।