নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে ১০বেডের আইসিইউ চার বছর ধরে বন্ধ। একই কারণে ২৪বেডের হাইব্রিড সিসিইউ চালু করা যাচ্ছে না। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলির মধ্যে অন্যতম পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি। চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্কটে এই মুহূর্তে নানাবিধ সমস্যায় ৩০০বেডের ওই হাসপাতাল। কলকাতা-মুম্বই জাতীয় সড়ক এবং মেচগ্রাম-ঘাটালের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়কে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে। জরুরিভিত্তিতে জখমদের এই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, সেখানে লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় রেফার করা ছাড়া কোনও উপায় থাকছে না। যেকারণে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
করোনা পরিস্থিতিতে ওই হাসপাতালে ১০ বেডের আইসিইউ বিভাগ চলত। সেখানে রোগীদের লাইন পড়ত। কিন্তু, করোনা পর্ব কেটে যাওয়ার পর ওই আইসিইউ বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে ২৪বেডের নতুন হাইব্রিড সিসিইউ বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর কাজ হয়েছে। কিন্তু, কর্মী সঙ্কটে ওই বিভাগ চালু করা যাচ্ছে না। একটি ২৪বেডের সিসিইউ বিভাগ চালুর জন্য অন্তত ছ’জন করে ডাক্তার, নার্স, টেকনিসিয়ান এবং গ্রুপ-ডি কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু, ওবিসি মামলার জেরে স্বাস্থ্যদপ্তরে নিয়োগ আটকে থাকায় তার প্রভাব পড়ছে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উপর। শিশুদের লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার জন্য এসএনসিইউ বিভাগ জরুরি। চিকিৎসক সঙ্কটে এবং জায়গার অভাবে ওই বিভাগও চালু করা যায়নি। বিকল্প হিসেবে দুই বেডের সিক নিউবর্ন স্ট্যাবিলাইজেশন ইউনিট(এসএনএসইউ) রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট নেই। যেকারণে ইউএসজি করার জন্য বহুমূল্যবান যন্ত্রপাতি আনার পর এখনও সিল কেটে বের করা হয়নি। ইউএসজি করা যায় না। সম্প্রতি রেডিওলজি বিভাগের একজন সিনিয়র রেসিডেন্টকে পাঠানো হয়েছে। যদিও তিনি এখনও জয়েন করেননি।
শুক্রবার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক হয়। সেখানে সমিতির চেয়ারম্যান তথা জেলা পরিষদের মেন্টর অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, সমিতির সদস্য তথা পাঁশকুড়া পুর প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র, তমলুকের মহকুমা শাসক দিব্যেন্দু মজুমদার, হাসপাতাল সুপার কৌশিক ধল প্রমুখ ছিলেন। মোট ২১দফা এজেন্ডা নিয়ে মিটিং হয়। কর্মী সঙ্কট একটি জ্বলন্ত সমস্যা। কিন্তু, রাজ্যব্যাপী নিয়োগ ঝুলে থাকায় এনিয়ে সমিতির করণীয় কিছু নেই।
এখানকার আবর্জনা সংগ্রহ নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। মিটিংয়ে ঠিক হয়েছে, পাঁশকুড়া পুরসভা নিয়মিত হাসপাতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছে। হাসপাতাল থেকে পীতপুর বাসস্টপ নিয়ে একটি সংযোগকারী রাস্তা নিয়েও পূর্তদপ্তরকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে রোগীর বাড়ির লোকজনের থাকার জন্য শেড নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। হাসপাতাল সুপার বলেন, ২৪বেডের হাইব্রিড সিসিইউ চালু করতে গেলে অন্তত ছ’-সাত জন করে ডাক্তার, নার্স, টেকনিসিয়ান, গ্রুপ-ডি কর্মী প্রয়োজন। ওই সংখ্যক স্টাফ না পাওয়া পর্যন্ত সিসিইউ চালু করা সম্ভব নয়।