Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আসানসোল জেলা হাসপাতালে মৃতের দেহ থেকে গয়না চুরির অভিযোগ চিকিৎসকের

চিকিৎসক মেয়ের কাছে মাইথনে সময় কাটাতে আসছিলেন বাবা-মা, সঙ্গী হয়েছিলেন পিসিও। কিন্তু হাওড়ার দাস পরিবারের বেড়ানোর আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ।

আসানসোল জেলা হাসপাতালে মৃতের দেহ থেকে গয়না চুরির অভিযোগ চিকিৎসকের
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: চিকিৎসক মেয়ের কাছে মাইথনে সময় কাটাতে আসছিলেন বাবা-মা, সঙ্গী হয়েছিলেন পিসিও। কিন্তু হাওড়ার দাস পরিবারের বেড়ানোর আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। শনিবার দুপুরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় কুলটি থানার চৌরঙ্গিতে মৃত্যু হয় চিকিৎসকের মা স্বর্ণালী দাস ও পিসি দীপাঞ্জনা মুখোপাধ্যা঩য়ের। মাতৃ বিয়োগে যখন ভেঙে পড়েছেন সহস্রা দাস, তখনই দেখেন আসানসোল জেলা হাসপাতাল থেকে মৃত মায়ের হাতে থাকা মোটা সোনার বালা ও আংটি চুরি গিয়েছে। এই বালা সহস্রার কাছে ‘অমূল্য’। কারণ, প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে স্বামী কাছ থেকে পাওয়া বালাটি কখনও খুলে রাখেননি তাঁর মা। মেয়েকে বলে গিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর বালাটি যেন সে আগলে রাখে। সেই সোনার বালাই হাপিশ হাসপাতাল থেকে। পিসির হাতে থাকা রুপোর আংটিও খোয়া গিয়েছে বলে সহস্রার অভিযোগ। তিনি হাসপাতাল সুপারকে লিখিত অভিযোগ করেন। ই মেলে অভিযোগ জানিয়েছেন আসানসোল দক্ষিণ থানাতেও। 

Advertisement

ঠিক কী ঘটেছিল? সহস্রা অভিযোগে লিখেছেন, শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটার সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মা ও পিসিকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে আনা হয়। সেখানেই চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের শরীরে থাকা অলঙ্কার খুলে নিতে বলা হয়। তখন মায়ের বালা ও আংটি এবং পিসির আংটি খোলা যায়নি। এরপর সিস্টার ইনচার্জ তাঁকে বলেন, দেহগুলি ইমার্জেন্সির পাশে একটি তালাবন্ধ ঘরে রাখা হবে। সেখান থেকে যখন মর্গে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন আপনাদের জানানো হবে। সেই সময়ে অলঙ্কার নিয়ে নেবেন। পাশের ফেসিলিটি ম্যানেজারের ঘরে তিনি মৃতের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, তাঁদের না বলেই দেহ দু’টি মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তিনি সেখানে গিয়ে অলঙ্কারগুলি দেখতে পাননি। এনিয়ে প্রশ্ন করেও কোনও সদুত্তর পাননি। তারপরই সুপারের ঘরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন এবং তার ভিডিও করে রাখেন। এই অবস্থায় ময়নাতদন্ত করানোর পর দু’টি দেহ নিয়ে হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দেন সহস্রা। রবিবার দাহ সম্পন্ন ক঩রেই তিনি আসানসোল দক্ষিণ থানায় ই মেলে অভিযোগ করেন।  সহস্রা বলেন, ওই বালা আমার মা, বাবার ভালোবাসার স্মৃতি, এর কোনও মূল্য নির্ধারণ সম্ভব নয়। মা মারা গিয়েছেন, বাবা চোট পেয়েছেন এই অবস্থাতেও বুকে পাথর চাপা দিয়ে আমি ছোটাছুটি করে অভিযোগগুলি করেছি। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার মনে হয়েছে, এটা একটি সংগঠিত অপরাধ। আগেও হয়েছে হয়তো, কিন্তু নিরীহ, মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত মানুষ অভিযোগ করার শক্তি পাননি। আমরা এর বিচার চাই।  প্রশ্ন উঠছে ঘটনাক্রম নিয়ে। দিনে দুপুরে এতবড় লুট! ইমার্জেন্সির সামনে সর্বক্ষণ পুলিশের নজরদারি থাকে। মৃতদেহ থেকে সহজে বালা, আংটি খোলা যায়নি। তাহলে কি চোরেরা মৃতদেহ থেকে অলঙ্কারগুলি কেটে বের করল? কেনই বা পরিবারকে দেহ মর্গে নিয়ে যাওয়ার আগে জানানো হল না? তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আসানসোল জেলা হাসপাতালে সুপার নিখিলচন্দ্র দাস বলেন, এই ধরনের অভিযোগ কোনওদিন পাইনি। আমি ওঁকে বলেছি, পুলিশকে লিখিত অভিযোগ করতে। আমরাও খোঁজ নেওয়া শুরু করেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ