Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিনহাটার পর এবার মেখলিগঞ্জ? চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা কাউন্সিলারদের

দিনহাটার পর এবার মেখলিগঞ্জ? চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা কাউন্সিলারদের
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: আবারও রাজনৈতিক টানাপোড়েন মেখলিগঞ্জে। গত আগস্ট মাসের পর ফের পুরসভার চেয়ারম্যান কেশবচন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন কাউন্সিলাররা। এবারে রীতিমতো আস্থা ভোটের দিন তারিখ ঠিক করে কাউন্সিলার ও চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশিস বর্ধন চৌধুরী। সেই চিঠি ঘিরেও শুরু হয়েছে বির্তক। অপরদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, এ ধরনের কাজে জেলা নেতৃত্বকে কিছুই জানানো হয়নি। দলে থেকে এ ধরনের কাজকে পুরোপুরি অনৈতিক হিসেবেই দাবি করা হয়েছে। তবে অনাস্থা প্রস্তাবের বৈঠক ডাকা প্রসঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কাউন্সিলারদের দাবি অনুযায়ী তিনি চিঠি করেছেন। চেয়ারম্যান কাউন্সিলারদের সঙ্গে অসহযোগিতা করছেন, মর্জিমাফিক কাজ করছেন। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, মেখলিগঞ্জ পুরসভায় ৯টি ওয়ার্ডেই তৃণমূলের কাউন্সিলার। আগস্ট মাসে প্রথম চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাউন্সিলারদের মতানৈক্য প্রকাশ্যে আসে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন কাউন্সিলাররা। যদিও জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে শেষপর্যন্ত সেই অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সম্প্রতি ফের কাউন্সিলাররা চেয়ারম্যানকে পদচ্যুত করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশিস বর্ধন চৌধুরী বলেন, কাউন্সিলাররা চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে নিজের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী সেই চিঠি দেওয়ার ১৫ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। তারপরও চেয়ারম্যান এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেননি। আমি ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পুরসভার বোর্ড মিটিং ডেকেছি। সেখানে চেয়ারম্যানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ হবে। আসলে চেয়ারম্যান কাউন্সিলারদের কোনও কাজেই সহযোগিতা করেন না। এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়াও আরও কিছু বিষয় রয়েছে। শুক্রবার বৈঠক রয়েছে। সেখানেই সমস্ত কিছু তুলে ধরা হবে। দলের জেলা নেতৃত্বকে কিছু জানাইনি, অন্য কাউন্সিলাররা জানিয়েছেন কি না জানি না। 
পুর চেয়ারম্যান কেশবচন্দ্র দাস বলেন, আমি কাউন্সিলার সহ পুরকর্মীদের নিয়ে শহরের উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এতে কয়েকজনের অসুবিধা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে বারবার উদ্দেশ্যহীনভাবে অনাস্থা নিয়ে আসা হচ্ছে। দল যদি আমাকে সরিয়ে অন্য কাউকে বসাতে চায় তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু যেটা হচ্ছে তা ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধির জন্য হচ্ছে। 
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়েই মেখলিগঞ্জ পুরসভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসা হয়েছে। দলে থেকে দলের নির্দেশ ছাড়া এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অনৈতিক। কি সমস্যা হয়েছে সেটাও জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখে সকলের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে। 
প্রসঙ্গত, দিনহাটা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করায় অনিয়মকে ঘিরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে চেয়ারম্যানকে। নতুন করে চেয়ারম্যানও করা হয়েছে। এর রেশ ধরেই এবার মেখলিগঞ্জ পুরসভায়ও চেয়ারম্যানকে সরাতে আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠেছেন কাউন্সিলাররা।
সম্পর্কিত সংবাদ