Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কংসাবতী নদীর বাঁধ মেরামত না হওয়ায় ঠিকাদারকে ধমক ডিএমের

গত বছর বন্যায় পাঁশকুড়ার গড়পুরুষোত্তমপুরে কংসাবতী নদীবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ন’মাস পরেও  মেরামত হয়নি। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে কংসাবতীর নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। জলের চাপে গত বুধবার গড়পুরুষোত্তমপুরে মেরামত চলাকালীন নদীবাঁধ অনেকটাই ধসে গিয়েছে।

কংসাবতী নদীর বাঁধ মেরামত না হওয়ায় ঠিকাদারকে ধমক ডিএমের
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গত বছর বন্যায় পাঁশকুড়ার গড়পুরুষোত্তমপুরে কংসাবতী নদীবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ন’মাস পরেও  মেরামত হয়নি। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে কংসাবতীর নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। জলের চাপে গত বুধবার গড়পুরুষোত্তমপুরে মেরামত চলাকালীন নদীবাঁধ অনেকটাই ধসে গিয়েছে। ফলে, আবারও বিপদের শঙ্কায় পাঁশকুড়ার মানুষ। কংসাবতীর জল মহল্লায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় তাঁরা আতঙ্কিত। শনিবার এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, মহকুমা শাসক দিব্যেন্দু মজুমদার, পাঁশকুড়া পুর প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন নন্দকুমার মিশ্র প্রমুখ। সঙ্গে ছিলেন সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। স্থানীয় লোকজন তাঁদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন। এরপরই প্রকাশ্যে ঠিকাদার সংস্থাকে ধমক দেন জেলাশাসক। পাশাপাশি ৩০ জুনের মধ্যে নদীবাঁধের কাজ শেষ করার ডেডলাইন বেঁধে দেন। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর বন্যার জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছিল পাঁশকুড়ার গড়পুরুষোত্তমপুরে কংসাবতী নদীবাঁধ। তারপর থেকে আর মেরামত করা হয়নি। গত তিনদিন পাঁশকুড়ায় নিউ কংসাবতী নদীতে জলস্তর অনেকটাই বেড়েছে। বিপদসীমা পার করে জল বইছে। শুক্রবার পাঁশকুড়া থানার অধীন ডোমঘাট, মাগুড়ি জগন্নাথচক, সরাইঘাট, ঘোলমাগুড়ি, রাধাবল্লভচক ও পরমানন্দপুর এলাকার সবকটি বাঁশের সাঁকো ভেসে গিয়েছে। পাশাপাশি ময়না ব্লকের প্রজাবাড়, দোবান্ধী, চংড়া কালাগণ্ডা ও পুরষাঘাটে বাঁশের সাঁকো ভেসে গিয়েছে। ফলে নদীর দু’পাড়ের মধ্যে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে। পাঁশকুড়ার জয়কৃষ্ণপুর, বাইপাস ও হরিনারায়ণচক এবং ময়নার শ্রীরামপুরে কংক্রিটের ব্রিজই এখন যোগাযোগের ভরসা। গ্রামীণ পাঁশকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার একমাত্র ভরসা হরিনারায়ণচক ব্রিজ। ওই ব্রিজের উপর প্রচুর যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যে কারণে প্রচণ্ড যানজট তৈরি হচ্ছে।
গত বছর পাঁশকুড়ায় চার জায়গায় কংসাবতীর নদীবাঁধ ভেঙে শহর ও গ্রামীণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ঘরবাড়ি, ফসল, মাছ চাষে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। গত ২২ জানুয়ারি সেচদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মণীশ জৈন পূর্ব মেদিনীপুরে এসে পাঁশকুড়ায় কংসাবতীর নদীবাঁধের সবকটি ভাঙা অংশ পরিদর্শন করেন। তারপর ভাঙা নদীবাঁধ মেরামতের জন্য সাড়ে ন’কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। পাঁশকুড়ার মানুর ও জন্দড়ায় নিউ কংসাবতী নদীবাঁধ মেরামতের জন্য সাড়ে তিন কোটি করে মোট সাত কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এছাড়া, গড়পুরুষোত্তমপুরে ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ শক্তপোক্ত করার জন্য বরাদ্দ হয় দেড় কোটি টাকা। উদয়পুরে নদীবাঁধ মেরামতের জন্য আরও ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এছাড়া, ময়না থানার নারিকেলডাহায় বাঁধ মেরামতে বরাদ্দ হয় ৫০ লক্ষ টাকা। মোট তিনটি সংস্থা ওই পাঁচ জায়গায় বাঁধ মেরামতের কাজের বরাত পায়। প্রাথমিকভাবে ৩০মে-র মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছিল। চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল ১৫ জুন। অথচ, আষাঢ় মাসেও গড়পুরুষোত্তমপুরে নদীবাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। তারমধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে ভাঙা জায়গায় নদীবাঁধ বসে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষজন উদ্বিগ্ন।
এদিন গড়পুরুষোত্তপুরে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী ঠিকাদারকে নদীবাঁধ মেরামতের কাজ কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি তা জানতে চান। জেলাশাসকের সুর চড়াতেই এলাকাবাসীও হই হই করে ওঠেন। তাঁদের থামিয়ে জেলাশাসক ঠিকাদারকে বলেন, মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছিল। এখনও সব কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এরইমধ্যে নরম মাটিতে বৃষ্টির জল পড়ে বসে গিয়েছে। এধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নজরদারির জন্য একটা কমিটি গড়া হয়েছে। পুরো কাজটা ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ