নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শুশুনিয়া পাহাড়ে নিষিদ্ধ হয়েছে লাউড স্পিকার, থার্মোকল, প্লাস্টিকের সামগ্রী ব্যবহার। মদ্যপদের ধরপাকড় জারি রয়েছে। এখনও পর্যন্ত আটজনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ছাতনা থানার পুলিশ জানিয়েছে। ছাতনার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, পর্যটনের মরশুমে শুশুনিয়ায় স্থায়ী পুলিশ পিকেট ও চেক পোস্ট বসেছে। সেখানে ছুটির দিনগুলিতে পিকনিক পার্টির ভিড় বাড়ছে। বড়দিন ও পয়লা জানুয়ারিতে বহু মানুষ শুশুনিয়ায় পিকনিক করতে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এখন থেকেই পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিষেধ সত্ত্বেও বাঁকুড়ার পিকনিক স্পটগুলিতে প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র মুকুটমণিপুর, ঝিলিমিলি, সুতানের পাশাপাশি বাঁকুড়া সদর মহকুমার পিকনিক স্পটগুলিতেও নিষিদ্ধ সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ। ছাতনার শুশুনিয়া, শালতোড়ার বিহারীনাথ, গঙ্গাজলঘাটির গাঙদুয়া জলাধার সংলগ্ন এলাকায় পিকনিক করতে আসা লোকজন যত্রতত্র প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, খাবারদাবারের প্যাকেট, থার্মোকলের থালা, বাটি ফেলে যাচ্ছেন। ফলে দূষণ ছড়াচ্ছে। পুরো ঘটনায় প্রশাসনিক নজরদারির অভাব রয়েছে বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। এ ব্যাপারে বাঁকুড়া জেলা অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, পিকনিক স্পটে প্লাস্টিক ও থার্মোকল ব্যবহার বন্ধ করতে বিডিওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্লক প্রশাসন নজরদারি শুরু করেছে। আশা করছি ওইসব নিষিদ্ধ সামগ্রীর ব্যবহার কমবে। এ ব্যাপারে পিকনিক পার্টি সহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, প্রশাসনের তরফে এর আগে বাঁকুড়াকে প্লাস্টিক মুক্ত জেলা ঘোষণা করা হয়। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন প্লাস্টিক এবং থার্মোকলের সামগ্রীর ব্যবহার জেলাজুড়ে বন্ধ করতে প্রশাসন উদ্যোগী হয়। প্লাস্টিকের রমরমা কমিয়ে শালপাতার থালা, বাটি ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়। শালপাতার সামগ্রী পরিবেশবান্ধব। তা ব্যবহারে পরিবেশের যেমন কোনও ক্ষতি হবে না, তেমনি শালাপাতার সামগ্রী প্রস্তুতকারী মানুষজনের রোজগারও বাড়বে। জেলা প্রশাসন চেষ্টা করলেও মহকুমা ও ব্লক স্তরের আধিকারিকদের উদাসীনতার জেরে পিকনিক স্পটগুলিতে প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ব্যবহার আটকানো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ। দাম কম হওয়ায় পিকনিক পার্টির লোকজনও ওইসব সামগ্রী ব্যবহার করছেন। খাওয়াদাওয়ার পর তা যত্রতত্র ফেলে চলে যাচ্ছেন। থার্মোকল ও প্লাস্টিকের সামগ্রী হাওয়ায় উড়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দূষণ সৃষ্টি করছে। গ্রামবাসীরা চরম সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সক্রিয় হতে আর্জি জানিয়েছেন।
সোমবার শুশুনিয়া পাহাড়ে গিয়ে পুলিশের সক্রিয়তা চোখে পড়ে। কর্মী আধিকারিকরা পিকনিক পার্টির কাছে গিয়ে থার্মোকলের থালা বাটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। কয়েকটি জায়গায় তারস্বরে মাইক বাজছিল। তা পুলিশ গিয়ে বন্ধ করে। দুর্গাপুর থেকে পিকনিক করতে আসা পূরবী হাজরা, বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা শালপাতার থালা, বাটি সঙ্গে এনেছিলাম। ফলে কোনও সমস্যা হয়নি। পুলিশ পরীক্ষা করে গিয়েছে।