Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীপাবলির আলোর উৎসব, মাতল দুই বর্ধমান জেলা

দীপাবলির আলোর উৎসবে মাতল দুই বর্ধমান। নানান আলোয় সেজে উঠেছে শহরের বিভিন্ন রাস্তা, বাড়ি। ব্যাপক হারে আঁতশ বাজিও পুড়তে দেখা যায়।

দীপাবলির আলোর উৎসব, মাতল দুই বর্ধমান জেলা
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান, আসানসোল ও সংবাদদাতা কাটোয়া: দীপাবলির আলোর উৎসবে মাতল দুই বর্ধমান। নানান আলোয় সেজে উঠেছে শহরের বিভিন্ন রাস্তা, বাড়ি। ব্যাপক হারে আঁতশ বাজিও পুড়তে দেখা যায়। ঩সেই সঙ্গে দুই জেলার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপেও ব্যাপক ভিড় হয়। বর্ধমানের সিটি ক্লাবের এবারের থিম রহস্য গুহা। পাড়াপকুরের আরএইউসি ক্লাবে দেখা যাচ্ছে হানাবাড়ির হুংকার। নীলপুরের অতুল স্মৃতি সংঘ ৫১ ফুটের প্রতিমা তৈরি করে চমক দিয়েছে। জাগরণী সংঘে পাওয়া যাবে বৌদ্ধ মন্দিরের শান্তি। সারাখানা গলির পাশে রাধানগরে দেখা যাবে তান্ত্রিকের তন্ত্রমন্ত্র। এছাড়া ভাতার, খণ্ডঘোষ এবং রায়নাতেও বড় মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। জেলার প্রতিটি থানাতেই ধুমধাম করে কাজ কালী পুজোর আয়োজন করা হয়। বর্ধমানের স্টেশন বাজারের মেহেদিবাগানের পুজো মণ্ডপ দেখতেও বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এসেছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। 

Advertisement

কালীপুজোয় উৎসবে মাতে শিল্পাঞ্চলও। আসানসোল ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় মণ্ডপ। ধনতেরাস উপলক্ষ্যে কয়েক দিন আগে থেকেই আসানসোল ও দুর্গাপুরের বাজারগুলি আলোতে সেজে উঠেছিল। রবিবার থেকে কালী মণ্ডপ ও তার চারিপাশ আলোয় সেজে ওঠায় অভিনব আলোক উৎসবের সাক্ষী থাকল শিল্পাঞ্চলবাসী। কুলটিতে যেমন বৃহৎ আকারের কালীমূর্তি তৈরি করে উদ্যোক্তারা চমক দিয়েছেন, তেমনই দুর্গাপুর ও আসানসোলে চোখ ধাঁধানো কালীপুজোর প্যান্ডেল দেখে মানুষ ভিড় জমায়। লক্ষ লক্ষ টাকা বাজেটের একএকটি মণ্ডপে নানা থিমের সমাহার দেখা যায়। কোথাও গড়ে উঠেছে ডিজনি ওয়ার্ল্ড, কোথাও আবার জগন্নাথ মন্দির। বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে আবার দেওয়া হচ্ছে সামাজিক বার্তা। রবিবারই অধিকাংশ পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন হয়ে গেলেও অনেকে প্রথা মেনে সোমবার কালীপুজোর দিনে পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করে। 
পূর্ব বর্ধমানের গ্রামীণ এলাকা ভাতারের বড়বেলুন এবং খেরুর গ্রামও জমজমাট হয়ে উঠেছিল। মেমারির আমাদপুর থেকে রায়না-১ ব্লকের ছোটবৈনানেও ব্যাপক ভিড় হয়। সারা রাত জেগে এলাকার বাসিন্দারা মায়ের পুজো দেখেন। আসানসোল ও দুর্গাপুরের প্রাচীন কালীমন্দিরগুলিতে ভক্তদের ঢল নেমেছিল সকাল থেকে। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া কল্যাণেশ্বরী মায়ের মন্দিরের সকাল থেকে বিশেষ পুজো অর্চনা শুরু হয়। একইভাবে দুর্গাপুরের ভিরিঙ্গি মা কালী মন্দির ও পিয়ালা কালী মন্দির পুজো হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ টহলদারি বাড়িয়েছিল। বধমান শহরে পুলিশের মহিলাবাহিনী সক্রিয় ছিল। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মণ্ডপের পাশাপাশি প্রাচীন মন্দিরগুলিতেও গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় ছিল। 
দীপাবলির আলোয় সেজেছে ভাগীরথীর পাড়ের শহর কাটোয়াও। মঙ্গলকোটের পালিগ্রামের খ্যাপাকালীর পুজো সতীশ তান্ত্রিকের পুজো নামে পরিচিত। চানক অঞ্চলের পালপাড়া গ্রামের বাইরে রাখাল বালকেরা প্রায় ২৫০ বছর আগে খেলার ছলে কালীপুজো শুরু করে। তারপর গ্রামের বাসিন্দারা সেই থেকেই গ্রামের ভিতরে মায়ের পুজো শুরু করে। সেই থেকেই এই কালীর নাম ‘ছেলেকালী’।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ