নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সবাই মিলেমিশে চল। নবাবের মুলূকে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত অথচ এমনই দৃঢ় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সবাই মিলেমিশে চল। নবাবের মুলূকে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত অথচ এমনই দৃঢ় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার বিকেলে বহরমপুরের ঐতিহাসিক ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে নেমেই মুখ্যমন্ত্রী দলের সাংসদ ও বিধায়কদের উদ্দেশে মিলেমিশে কাজ করার বার্তা দেন। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে মাঠভর্তি জনতার দিকে এগিয়ে চলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এদিন দুপুর ১টা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বিশাল ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে ভিড় জমাতে শুরু করেন দলের নেতা,কর্মীরা। ময়দানের হেলিপ্যাডে যখন মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার নামে, তখন ঘড়িতে সওয়া চারটে। গোটা মাঠে তখন থিকথিক করছে জনতা। ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে যখন হেলিকপ্টারের প্রথম শব্দ শোনা যায় তখনই স্লোগান উঠতে শুরু করে। হেলিকপ্টার নামতেই গোটা মাঠে জয়ধ্বনি মুখরিত হয়। মানুষের অভিবাদন পেয়ে হেলিকপ্টার থেকে নেমে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর গাড়িতে না উঠে চলে যান হেলিপ্যাডের বাঁশের রেলিংয়ের ধারে। হেলিপ্যাডে চারিদিক ঘুরে উচ্ছ্বসিত জনতার দিকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হাত নাড়িয়ে অভিবাদন জানান তিনি। মাঠের পশ্চিম দিকে পায়ে হেঁটে আসেন। দলের জেলার নেতা ও কর্মীদের অভিবাদন জানাতে জানাতে তিনি ঢুকে পড়েন সার্কিট হাউসে।
মুখ্যমন্ত্রী সার্কিট হাউজে ঢোকার পরেও মাঠে থাকা জনতা ও দলের নেতা, কর্মীরা গেটের সামনে ভিড় করেন। চলতি বছরেই তিনবার মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ এলেন। প্রতিবারই মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীও জেলাবাসীর জন্য একের পর এক প্রকল্প উপহার দিয়েছেন। এসআইআর আবহে মুর্শিদাবাদে ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন বিএলও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। বহু মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন এসআইআর নিয়ে। তাঁদের পরিবারের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী কি বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সবাই। বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটা নাগাদ বহরমপুর থেকে হেলিকপ্টারে মালদহের গাজলের উদ্দেশে রওনা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ওখানে একটি জনসভা করার পর তিনি ফের বহরমপুরে এসে দলীয় বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে একটি বৈঠক করতে পারেন। বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্টেডিয়ামে একটি জনসভা করে তারপর কলকাতার উদ্দেশে উড়ে যাবেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হেলিপ্যাডে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার, সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, খলিলুর রহমান, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা ও বিধায়ক নিয়ামত শেখ প্রমুখ।
অপূর্ববাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে মুর্শিদাবাদে স্বাগত জানাতে হাজার হাজার মানুষ মাঠে এসেছেন। দিদি খুব খুশি। আমরা সবাই কেমন আছি সেই খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সকলে যেন মিলেমিশে থাকি সেই বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, দিদি এসেছেন আমাদের জেলায়। সেজন্য আমরা সবাই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছি। গোটা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার, হাজার মানুষ দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছেন। দিদি নিরাশ করেননি। হেলিকপ্টার থেকে নেমে উনি জমায়েত হওয়া নেতা, কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন ও বয়োজ্যেষ্ঠদের
নমস্কার করেন। আমরা সবাই খুব খুশি। -নিজস্ব চিত্র