সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সদ্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি হয়েছেন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ সৃঞ্জয় সান্যাল। পুজোর ছুটি শেষে বালুরঘাট কলেজ খোলার প্রথম দিনে তিনি কলেজে পা রাখতেই শুরু হয়ে গেল বিতর্ক। টিএমসিপি জেলা সভাপতিকে কলেজে ঢুকতে বাধা দিলেন সংগঠনেরই আরেক গোষ্ঠীর ছাত্রনেতারা। সভাপতিকে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী বিপ্লবের ছবি দেওয়া ফ্লেক্স টাঙাতেও বাধা দেওয়া হয়। এনিয়ে জেলা সভাপতির সঙ্গে প্রকাশ্যে বচসা বেঁধে যায় অপর গোষ্ঠীর ছাত্রনেতাদের। এনিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কলেজে। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর অভিযোগ, নতুন জেলা সভাপতি কলেজ ইউনিটকে না জানিয়েই এসেছেন। এমনকী, বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়েও কলেজে ঢোকার চেষ্টা করেছেন জেলা সভাপতি। তাই তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা সভাপতি সৃঞ্জয়। তবে পরে কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষ এবং অন্য ছাত্রদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৃঞ্জয়।
পরে টিএমসিপি’র জেলা সভাপতি বলেন,আমাদের দলের সেনাপতির নির্দেশে ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’র কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, তার প্রচারেই এসেছিলাম। আমি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলাম। তাই বর্তমান ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আমাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। মিটে গিয়েছে।
ফ্লেক্স বিতর্ক প্রসঙ্গে সৃঞ্জয় বলেন, আমি যে ফ্লেক্স বানিয়েছি, তাতে বিতর্কের কিছু নেই। যে বা যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা হয়তো বিরোধী বা বাইরের কেউ। আমি বাইরের কাউকে নিয়ে কলেজে প্রবেশ করিনি।
সংগঠনের কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক দেবজ্যোতি দে বলেন, আমাদের কাউকে না জানিয়ে জেলা সভাপতি কলেজে এসেছেন। ওঁকে অনেকেই চেনে না। ওঁর সঙ্গে কিছু দুষ্কৃতীকে আসতে দেখা গিয়েছিল। কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ভয় পেয়ে এবং নিরাপত্তারক্ষী গেট আটকে দিয়েছিলেন। পরে গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ইউনিট সভাপতি পরিতোষ শীলের দাবি, জেলা সভাপতিকে কেউ আটকায়নি। একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সিনিয়ররা কথা বলে মিটিয়ে নিয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ কুণ্ডু বলেন, কেউ কাউকে আটকায়নি। আমার কাছে সবাই এসেছিল। সবার সঙ্গে কথা বলেছি।
কিছুদিন আগেও দক্ষিণ দিনাজপুর টিএমসিপি’র জেলা সভাপতি ছিলেন অমরনাথ ঘোষ। তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে রাজ্য সম্পাদক পদে এনেছে তৃণমূল। তিনি মন্ত্রী বিপ্লবের বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত। অন্যদিকে, নতুন জেলা সভাপতি সৃঞ্জয় মন্ত্রী বিপ্লবের গোষ্ঠী বলে পরিচিত। দুই গোষ্ঠীর কোন্দল আগে থেকেই ছিল। সৃঞ্জয়কে সরানোর পর এদিন গোষ্ঠীকোন্দল ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বালুরঘাট কলেজে শাসকদলের দুই ছাত্রনেতার মধ্যে তর্কাতর্কি। - নিজস্ব চিত্র।