Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্লোজ অভিযুক্ত এএসআই তদন্তে জেলা পুলিস

শিক্ষকের স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠল এক পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে।

ক্লোজ অভিযুক্ত এএসআই তদন্তে জেলা পুলিস
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শিক্ষকের স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠল এক পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামী ও সন্তানদের খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। পুলিস সুপারের অফিসে পাবলিক গ্রিভান্স সেলে অভিযোগ জানান ওই যুবতী। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা থাকায় অভিযুক্ত এএসআই শেখর নস্করকে ৩০মে পুলিস লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। জেলার পুলিস সুপারের নির্দেশে ওইদিন সুতাহাটা থানায় ওই পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এনিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে চলেছে জেলা পুলিস। ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিস মহলে হইচই পড়ে গিয়েছে। জেলার পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, অভিযুক্ত অফিসারকে ক্লোজ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত এএসআই শেখর নস্কর পাঁশকুড়া থানায় কর্মরত ছিলেন। গত শুক্রবার তাঁকে ওই থানা থেকে ক্লোজ করা হয়েছে। আরও আগে তিনি সুতাহাটা থানাতেও কর্মরত ছিলেন। সেই সময় স্থানীয় ওই শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। বাড়িতে আসা যাওয়া থেকে আত্মীয়ের মতো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই পুলিস অফিসারের বাড়ি দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলায়। নিজের বাড়ি তৈরি এবং মেয়ের বিয়ের জন্য তিনি শিক্ষকের পরিবারের কাছ থেকে ১০লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে শিক্ষকপত্নী দাবি করেছেন। এমনকী, ওই শিক্ষকের বাড়িতে অভিযুক্ত পুলিস অফিসারের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানও হয়েছে।
পাঁশকুড়ায় বদলি হওয়ার পর ওই পুলিস অফিসারের সঙ্গে শিক্ষকের পরিবারের সম্পর্কে চিড় ধরে। এরমধ্যে ধার নেওয়া টাকা ফেরত সহ বেশকিছু বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলতে থাকে। ওই শিক্ষকের স্ত্রীর অভিযোগ, ওই পুলিস অফিসার নিজের মোবাইলে তাঁর আপত্তিকর ছবি তুলে রেখেছেন। সেইসব ছবি হাতিয়ার করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য চাপ তৈরি করছেন। তাতে রাজি না হওয়ায় পরিবারের অন্যদের মোবাইলে ওই ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর কথায় রাজি না হলে স্বামী, ছেলে ও মেয়েকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে ওই যুবতী এসপি অফিসের গ্রিভান্স সেলে চিঠি লিখেছেন।
ওই পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ ওঠায় তা খতিয়ে দেখতে সুতাহাটা থানার এসআই গৌরব মিত্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই পুলিস অফিসার প্রাথমিকভাবে ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে রিপোর্ট দেন। তারপরই পুলিস সুপার অভিযুক্ত পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য সুতাহাটার ওসিকে নির্দেশ দেন। সেইমতো ওই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। ওইদিন তাঁকে পুলিস লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।
সোমবার অভিযুক্ত এএসআই বলেন, আমার সঙ্গে সুতাহাটার ওই পরিবারের বহু বছরের সুসম্পর্ক রয়েছে। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেছেন। তারপর অবশ্য অভিযোগ তুলে নিতে চেয়েছেন। ৩০মে আমাকে পাঁশকুড়া থানা থেকে পুলিস লাইনে আসতে বলা হয়। তখন থেকেই নিমতৌড়িতে পুলিস লাইনে রয়েছি। অভিযোগকারী ওই গৃহবধূ বলেন, আমি অভিযোগ করেছিলাম। পুলিস কেস রুজু করেছে কি না জানা নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ