Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীতে মেশিন নামিয়ে বালি তোলা নিয়ে কঠোর জেলাশাসক, পদক্ষেপের নির্দেশ

মাঝনদীতে নেমে গিয়েছে ডাম্পার। সেখান থেকে কয়েক হাত দূরে রয়েছে জল। সেখানেই অত্যাধুনিক মেশিন নামিয়ে বালি তোলা হচ্ছে। মেশিনে জল ও বালি আলাদা হয়ে যাচ্ছে।

নদীতে মেশিন নামিয়ে বালি তোলা নিয়ে কঠোর জেলাশাসক, পদক্ষেপের নির্দেশ
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মাঝনদীতে নেমে গিয়েছে ডাম্পার। সেখান থেকে কয়েক হাত দূরে রয়েছে জল। সেখানেই অত্যাধুনিক মেশিন নামিয়ে বালি তোলা হচ্ছে। মেশিনে জল ও বালি আলাদা হয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলকোটের মাঝখারা এলাকায় গিয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের চক্ষূ চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। পাশের একটি বালিঘাটের চালান নিয়ে কারবার চলছিল। বিষয়টি ব্লকের আধিকারিকরা জেলাশাসক আয়েশা রানি এ’কে জানান। তিনি কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। জেলাশাসক বলেন, অবৈধভাবে কেউ বালি তুললে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব ব্লকেই অভিযান চলছে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাঝ নদীতে মেশিন নামিয়ে বালি তোলার খবর আধিকারিকদের কাছে এসেছে। গলসির গোহগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় এই মেশিন ব্যবহার করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এক আধিকারিক বলেন, অত্যাধুনিক মেশিন নামিয়ে বালি তোলা হলে নদ বা নদীর দফারফা হয়ে যায়। নদীর অনেক গভীরে গিয়ে এই মেশিনের মাধ্যমে বালি তোলা হয়। নদীতে নৌকার মধ্যে মেশিনটি রাখা হয়। বড় পাইপের মাধ্যমে বালি তুলে ট্রাক বা ডাম্পার ভর্তি করা হয়। মঙ্গলকোটে ওই ঘাট থেকে নৌকা এবং মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘাট টেন্ডার নেওয়ার সময় ব্যবসায়ীদের বেশকিছু শর্ত দেওয়া হয়। বালি তুলতে গেলে কী কী শর্ত মানতে হবে, তা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়। নদীগর্ভে গিয়ে মেশিনের মাধ্যমে বালি না তোলার নির্দেশও তাদের দেওয়া হয়। অনেকেই সেই নিয়মের তোয়াক্কা করে না। মঙ্গলকোটের ওই বালির ঘাটটিও অবৈধভাবে চলছিল। সেখানকার সমস্ত চালান বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের বালি মাফিয়াদের উপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারও নজর রয়েছে। কয়েকদিন আগে ইডির আধিকারিকরা গলসির গোহগ্রাম এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন। সেখানে একটি সংস্থা বালি মজুত করেছিল। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ইডি তদন্ত করছে। অনেকে ঘাট লিজ নেওয়ার পরও বেআইনিভাবে কারবার চালায়। যতটা অংশ তারা টেন্ডার পায়, তার বাইরে গিয়েও বালি তোলা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়া, বালির চালান নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এক ঘাটের চালান অন্য জায়গায় ব্যবহার করা হয়। কয়েকদিন আগে আউশগ্রামেও এমন অভিযোগ উঠেছিল। এক কারবারি বীরভূমে একটি বালিঘাটের টেন্ডার পান। তিনি আউশগ্রামের অজয় নদ থেকেও বালি তুলছিলেন। অভিযোগ পেয়ে প্রশাসন ওই ঘাটে অভিযান চালায়। জেলাশাসক বলেন, লাগাতার অভিযান চলছে। চালান ছাড়া কেউ বালির কারবার করার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ