নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘আমাদের রং পেনসিল নেই, দিলে আঁকতে পারতাম। অন্যজনের দাবি, লাফদড়ির দড়ি ছিঁড়ে গিয়েছে। খেলতে পারছি না। অন্য জনের দাবি স্কুলের জন্য আমাদের একটা ফুটবল দেবেন?। এরকম একের পর এক দাবি উঠে আসছে। মাঠের মধ্যে চেয়ারে বসে গাল ভর্তি দাড়ি আর অবিনস্ত চুল নিয়ে তাদের কথা শুনছেন একজন। খুদেদের সমস্যা শুনে তিনি কখনও হাসছেন আবার কখনও গম্ভীরভাবে এই সমস্যা উপলব্ধি করছেন। তিনি পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। ডিএমকে হাতের কাছে পেয়ে খুদেরা জানিয়েছে, তাদের ব্যবহৃত শৌচালয় খারাপ অবস্থায় রয়েছে। কেউ জানায় স্কুল চত্বরের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা দরকার। এযেন খুদেদের পঞ্চায়েত বসেছিল দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের বনগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধানের আদলে এখানে স্কুলে স্কুলে শুরু হয়েছে,‘খুদেদের পাড়ায় খুদেদের সমাধান। সেই কর্মসূচিতেই অংশ নেন জেলাশাসক ও স্থানীয় বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। জেলাশাসক আসায় স্কুলের হাজির হয়েছিল অতিরিক্ত জেলাশাসক(শিক্ষা) সঞ্জয় পাল সহ এক ঝাঁক আমলা। অন্যদিকে বিধায়কের সঙ্গে এসেছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, জেলা পরিষদ সদস্যরাও। এত প্রভাবশালীর সামনেও সাবলীল ভাবে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরেন প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়ারা। কিছু দাবি সঙ্গে সঙ্গেই মিটল। বিধায়ক ছুড়ে দিলেন ফুটবল। মেয়েদের তুলে দিলেন লাফদড়ির বিশেষ দড়ি। তেমনি জেলাশাসক হাতে তুলে দেন রং পেনসিলের বাক্স। শেষে বাড়তি পাওনা বলতে সার্কাস দেখার সুযোগ। বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ঘোষণা করেন, স্কুলে বাস পাঠাব। তোমাদের সবাইকে নিয়ে উখরা ঝুলন মেলায় সার্কাস দেখতে যাব। বেজায় খুশি খুদেরা। অন্যদিকে জেলাশাসক বলেন, প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখন থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে এই মানসিকতা গড়ে তোলা দরকার। কখনও কীভাবে দাবি তুলে ধরতে হয় এটাও বড় শিক্ষা। সকলের স্বার্থে কাজ করার মানসিকতা এথেকেই গড়ে উঠবে। -নিজস্ব চিত্র