Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৩টি খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা জেলা আদালতে

একই দিনে তিনটি পৃথক খুনের ঘটনায় সাজা ঘোষণা করল মুর্শিদাবাদ জেলা আদালত।

৩টি খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা জেলা আদালতে
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: একই দিনে তিনটি পৃথক খুনের ঘটনায় সাজা ঘোষণা করল মুর্শিদাবাদ জেলা আদালত। হরিহরপাড়া থানার একটি খুনের মামলায় ১২ বছর পর যাবজ্জীবন সাজা হল এক অভিযুক্তের। তোজাম্মেল আনসারি ওরফে তুজামলকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন জেলা দায়রা বিচারক পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী। 

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৩ জুন গোলাম মোস্তাফা নামে একজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করেছিল তোজাম্মেল ও বাবু মণ্ডল। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন বাবুর মৃত্যু হয়। এই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তোজাম্মেল বেশ কিছুদিন গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে পুলিস তাকে আবার গ্রেপ্তার করায় ফের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে এতদিন জেলেই ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 
সরকারি আইনজীবী আরিফুজ্জমান ও ভুবনকুমার মণ্ডল বলেন, ১২ বছর পর এই মামলায় সাজা ঘোষণা হল। এই মামলায় অপর আসামী মারা গিয়েছে। তারপর সাক্ষ্য চলাকালীন তোজাম্মেল তিন বছর আত্নগোপন করেছিল। পরবর্তীতে পুলিস তাকে আবার গ্রেপ্তার করে। এরজন্য বিচার প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে। 
অপরদিকে, জলঙ্গিতে একটি খুনের মামলায় ছয় বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা আদালত। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট জলঙ্গির জয়কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা সাদেক আলিকে নৃশংসভাবে খুন করে তারই ভাই। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস অভিযুক্ত বাবর আলিকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ আট বছর মামলা চলার পর মুর্শিদাবাদের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্রাক কোর্টের বিচারপতি অভিযুক্ত বাবরকে ছ’বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। এই মামলার সরকারি আইনজীবী বরেন্দ্রকুমার রায় এবং ইমাদুল হক মণ্ডল বলেন, সমস্ত তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত বাবরকে ছ’বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অপর একটি ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলার তৃতীয় অতিরিক্ত দায়রা আদালতে দৌলতাবাদ থানার একটি খুনের ঘটনায় সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। অভিযুক্ত নবিসুউদ্দিন শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দাদাকে হাঁসুয়া দিয়ে নৃশংসভাবে কোপানোয় কলকাতারার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর মৃতের স্ত্রী থানায় অভিযোগ জানালে পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার প্রায় সাত বছরের মাথায় এদিন সাজা ঘোষণা করে আদালত। 
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, খুন এবং জঘন্য অপরাধের মামলাগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মনিটরিং করা হচ্ছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের আমরা বারবার বিভিন্ন মামলার বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি। যে কারণে বেশকিছু পুরনো মামলার পরপর রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এই তিনটি মামলারও একইদিনে সাজা ঘোষণা হল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ