Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফসল বিমায় ৬ লক্ষ চাষিকে অন্তর্ভুক্ত করার ‘লক্ষ্যমাত্রা’ জেলা কৃষিদপ্তরের

চলতি খরিফ মরশুমে বাঁকুড়ার ছ’লক্ষ চাষিকে বাংলার শস্যবিমা যোজনার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এবার অতিবৃষ্টির কারণে জেলার নিচু এলাকাগুলিতে আমন ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফসল বিমায় ৬ লক্ষ চাষিকে অন্তর্ভুক্ত করার ‘লক্ষ্যমাত্রা’ জেলা কৃষিদপ্তরের
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চলতি খরিফ মরশুমে বাঁকুড়ার ছ’লক্ষ চাষিকে বাংলার শস্যবিমা যোজনার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এবার অতিবৃষ্টির কারণে জেলার নিচু এলাকাগুলিতে আমন ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিমার আওতায় থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা পাবেন বলে কৃষিদপ্তর জানিয়েছে। চাষিদের মধ্যে এব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মঙ্গলবার বাঁকুড়া কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি ট্যাবলোর উদ্বোধন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন, অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) রোহন লক্ষ্মীকান্ত যোশী, জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বরূপা সেনগুপ্ত প্রমুখ।

Advertisement

বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা দেবকুমার সরকার বলেন, গতবার জেলায় খরিফ ও রবি মরশুমে যথাক্রমে ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ও ৪ লক্ষ ২৪ হাজার কৃষককে বিমার আওতায় আনা হয়েছিল। এবার জেলায় আমন চাষের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আমরা মোট ছ’লক্ষ চাষিকে বিমার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। ইতিম঩ধ্যে বিমার জন্য আবেদনপত্র নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চাষিদের মধ্যে প্রচারের জন্য গোটা জেলায় ট্যাবলো ঘুরবে। 
উল্লেখ্য, আগে চাষিদের ভাগ্য আবহাওয়ার উপর নির্ভর করত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হলে চাষিদের পথে বসতে হতো। বহু চাষি ফসলহানির জন্য আত্মহত্যা করেছেন। বর্তমানে ওই প্রবণতা কমেছে। এরাজ্যে তৃণমূল সরকার বাংলার ফসল বিমা যোজনা চালু করে। আগে বিমার প্রিমিয়াম চাষিদের দিতে হতো। কৃষিঋণ প্রদানের সময় ওই টাকা কেটে নেওয়া হতো। বর্তমানে অবশ্য চাষিদের তা দিতে হয় না। রাজ্য সরকার প্রিমিয়ামের টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে মিটিয়ে দেয়। ফলে ফসল নষ্ট হলে চাষিরা ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা পান। যদিও চাষে মোট ব্যয়ের তুলনায় ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমাণ কম বলে চাষিদের অভিযোগ। বিমার ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বৃদ্ধির দাবিও চাষিরা তুলেছেন।
বাঁকুড়ার ধানচাষি সুপ্রভাত ঘোষ, সজল মণ্ডল বলেন, গতবারও আমাদের জেলার বিভিন্ন মৌজা জলমগ্ন হয়েছিল। ফলে আমন ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবারও অতিবৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় কিছু ধান নষ্ট হয়েছে। কিছু জমি এখনও জলের তলায় রয়েছে। গতবার ক্ষতির তুলনায় কম টাকা পেয়েছিলাম। বিষয়টি সরকারের দেখা উচিত। 
চাষিরা বলেন, আগে শস্যবিমার প্রিমিয়ামের টাকা আমাদের দিতে হতো। বর্তমানে রাজ্য সরকার তা দিয়ে দেয়। ফলে আমাদের কোনও আর্থিক চাপ নিতে হয় না। পাশাপাশি কৃষক বন্ধু প্রকল্পে টাকা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কিছুটা লাভ হয়েছে। কিন্তু সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতির দাম হু হু করে বাড়ছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের দেখা উচিত। তা না হলে আগামী দিনে চাষিদের আরও দুর্দিন ঘনিয়ে আসবে। কৃষিদপ্তরের এক কর্তা বলেন, আগে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হতো। বর্তমানে প্রযুক্তির সাহায্যে তা করা হয়। উপগ্রহ চিত্র এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আবহাওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করা হয়। ফসলহানি হলে বিমা সংস্থা  ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেয়। বিমার ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের হাতে নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ