নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নানা অজুহাতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা করা হচ্ছে। বাংলায় কথা বলায় হাজতে আটকে রাখার অভিযোগও উঠছে প্রচুর। কখনও আবার পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি, গুজরাত সহ বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বীরভূমের পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে। এব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন পরিযায়ী শ্রমিকদের ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরির কাজে জোর দিয়েছে। অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে জেলাজুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথিভুক্তকরণের কাজ করা হচ্ছে। লক্ষ্য, জেলার প্রতিটি পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথিভুক্ত করা।
সাংসদ বলেন, বাংলায় কথা বলায় বিজেপি শাসিত রাজ্যে শ্রমিকদের হেনস্তা করা হচ্ছে। আটক করা হচ্ছে। এমনকী, ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হচ্ছে। কখনও আবার বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হচ্ছে। সবটাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইতিমধ্যে এনিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পাশাপাশি একাধিক রাজ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামীতে সংসদেও বিষয়টি তুলে ধরব।
সরকারি তথ্য অনুসারে এই মুহূর্তে বীরভূম জেলার তিনটি মহকুমা এলাকায় এক লক্ষ এক হাজার ২৮১ জন পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। সেই হিসেবে জেলার রামপুরহাট মহকুমায় পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা যথেষ্টই বেশি। শুধুমাত্র ওই একটি মহকুমাতেই প্রায় ৫৮ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। এছাড়াও জেলার বোলপুর ও সিউড়ি মহকুমা এলাকার যথাক্রমে ২৯ হাজার ও ১৪ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। প্রত্যেকেই কাজের তাগিদে ভিন রাজ্যে রয়েছেন।
তবে, এমন অনেক পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন যাঁদের নাম এখনও পর্যন্ত শ্রমদপ্তরের তালিকাভুক্ত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ওই শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে বিপদে পড়লে সমস্যার অন্ত থাকে না। সেক্ষেত্রে জেলাস্তরে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথিভুক্তকরণের কাজে বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার একজন পরিযায়ী শ্রমিকের নামও যাতে বাদ না যায় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বীরভূম জেলার শ্রমিকদের হেনস্তার ঘটনা ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে থাকায় জেলা প্রশাসনের কর্তারাও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ সমিতির তরফে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত জেলার ছ’জন বাসিন্দাকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই শিশু সহ এক নাবালক রয়েছে। ওড়িশাতেও আটকে রয়েছেন সাতজন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের পরিবারও বেশ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।