Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অপারেশন সিন্দুরে অংশ নিয়ে পাক ঘাঁটিতে আক্রমণ, বহরমপুরের শুভজিতের সাহসিকতাকে সম্মান জেলা প্রশাসনের

৮ ও ৯ মে দুটো রাত ছিল বিএসএফের মর্টার প্লাটুনের ন’ জন সশস্ত্র জওয়ানের কাছে অ্যাসিড টেস্ট। তাঁদের পাঠানো হয়েছিল পাক হানাদারদের ঘাঁটিতে আক্রমণ শানাতে।

অপারেশন সিন্দুরে অংশ নিয়ে পাক ঘাঁটিতে আক্রমণ, বহরমপুরের শুভজিতের সাহসিকতাকে সম্মান জেলা প্রশাসনের
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ৮ ও ৯ মে দুটো রাত ছিল বিএসএফের মর্টার প্লাটুনের ন’ জন সশস্ত্র জওয়ানের কাছে অ্যাসিড টেস্ট। তাঁদের পাঠানো হয়েছিল পাক হানাদারদের ঘাঁটিতে আক্রমণ শানাতে। জম্মু কাশ্মীরের সাম্বা সেক্টরে সীমান্তের ওপার থেকে অনবরত ছুটে আসছে গোলাগুলি। মাথার উপর দিয়ে সাঁই সাঁই শব্দে ছুটে যাচ্ছে শত্রুদের ছোড়া গোলা। এপারে ক্রমাগত জায়গা বদলে যাচ্ছেন বিএসএফের জওয়ানরা। জায়গা বদলাতে বদলাতেই গোলা ছুঁড়ছেন তাঁরা। এটাই ছিল তাঁদের স্ট্র্যাটেজি। যাতে পাক হানাদাররা বিএসএফের এই স্পেশাল ইউনিটের সদস্যদের টিকিটি না ছুঁতে পারে। তাঁদের সেই স্ট্র্যাটেজি যে একশো শতাংশ সফল তা বোঝা গিয়েছিল পরদিন সকালে। হাই ফ্রিকোয়েন্সি ক্যামেরায় তোলা ছবিতে দেখা গেল পাক হানাদার বাহিনীর ১৫-২০ জন ঘায়েল হয়ে গিয়েছে। বিএসএফের রণকৌশলে পরাস্ত হয়ে ঘাঁটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়ে পাকিস্তান আর্মি ও সন্ত্রাসবাদীরা। তারপর থেকে ওই এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের আনাগোনা আর দেখা যায়নি। এই ইউনিটেরই এক অফিসার শুভজিৎ রায়—  বহরমপুরের কাশিমবাজারের ছেলে। তাঁর মুখে এই রোমহর্ষক বিবরণ শুনতে শুনতে কখনও গায়ে কাঁটা দেয়, তো কখনও রক্ত গরম হয়ে যায়। তাঁদের ইউনিট অংশ নিয়েছিল অপারেশন সিন্দুরে। কুড়ি দিন আগে ছুটি পেয়ে বাড়িতে এসেছেন শুভজিৎ। তাঁর এই কৃতিত্বের কথা বিএসএফের তরফ থেকে জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। সোমবার দুপুরে বহরমপুর জেলা প্রশাসনিক ভবনে শুভজিৎকে সম্মান জানায় জেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে বহরমপুর জেলা প্রশাসনিক ভবনে বসে শুভজিৎ শোনাচ্ছিলেন সেই ঘটনা। হাজির ছিলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) চিরন্তন প্রামাণিক, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) পি প্রমথ প্রমুখ। একে একে প্রত্যেকে শুভজিৎকে তাঁর সাহসিকতার জন্য সম্মান জানান। জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র বলেন, আমরা সীমান্তের এই চ্যালেঞ্জের কথা সবসময় জানতে পারি না। শুভজিৎবাবুরা আমাদের গর্ব। তাঁর সাহসিকতার কথা জানতে পেরে এদিন আমরা তাঁকে সম্মান জানালাম।

Advertisement

শুভজিৎ বলেন, ১৪ বছর ধরে বিএসএফে কাজ করছি। তবে অপারেশন সিন্দুর অনেক কিছু শেখাল। বিএসএফের স্পেশাল বাহিনীতে কাজের দরুণ ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আমাদেরও সাম্বা সেক্টরে পাঠানো হয়েছিল। পাকিস্তানি ঘাঁটি লক্ষ্য করে আমাদের লাগাতার আক্রমণ ওদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিল। গভীর রাতে অপারেশন চালানো হয়। তখন স্ট্রাটেজি ফলো করে শুধু হামলা করেছি। এই কাজের জন্য বিএসএফের তরফ থেকে আমাদের ইউনিটকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এবং সম্মান জানানো হয়েছে। এদিন জেলা প্রশাসনের হাত থেকে সম্মান পেয়ে সত্যি খুব গর্বিত। 
শুভজিতের স্ত্রী এবং কন্যা এদিন এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রিয়া রায় বলেন, আমি গৃহবধূ, মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকি। খুব ভয় পেয়েছিলাম। আজ যখন ঠিকভাবে ফিরে এসেছে, অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি। ও অপারেশনের সময় কিছু বুঝতে দেয়নি। শুধু একটা কথাই বলত, যা হওয়ার হবে। তোমরা শক্ত থেক। ও তখনই বলেছিল, ফোনে এখন বেশি কথা হবে না। তখন আমাদের চিন্তা শুরু হয়। ও আমাদের সাহস 
দিচ্ছিল। ওর কথা শুনেই আমরা সকলে স্বাভাবিক থাকতে চেষ্টা করছিলাম। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ