নিজস্ব প্রতিনিধি, কামারপুকুর ও সংবাদদাতা, ঘাটাল: ‘এটা বাংলা ভাষা। বাংলাদেশি নয়...’—বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভের আঁচ এভাবেই আছড়ে পড়ছে দেশজুড়ে। আর সেই ‘ভাষা আন্দোলনে’র সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে বাংলারই মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা ও বাঙালিদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর হুঙ্কার, ‘আমাদের ভাষা নিয়ে কেউ খেলার চেষ্টা করবেন না। অসম্মান করার কথা ভুলেও ভাববেন না। তার ফল ভয়ঙ্কর হবে।’ রবি ঠাকুর, শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দের মাটি থেকে নিক্ষেপ করা এই মারণাস্ত্রের লক্ষ্য যে বিজেপি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মঙ্গলবার কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান মঞ্চই তাই হয়ে দাঁড়াল তাঁর যুদ্ধভূমি। বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে আরামবাগ থেকে ঘাটাল গেলেন তিনি, তারপর কেশপুর। আর প্রতি পদক্ষেপে বাংলা ভাষার জন্য সুর চড়ল তাঁর। তীব্র থেকে তীব্রতর হল বিজেপিকে আক্রমণের ভাষা।
দিল্লি পুলিসের আশ্চর্যজনক মন্তব্য এবং বিজেপি মুখপাত্রের তাকে সমর্থন! এই ঘটনাক্রমে বিরক্তি এতটুকু লুকিয়ে রাখেননি মমতা। তাঁর ক্ষোভ, ‘বলে দিচ্ছে বাংলা নামে কোনও ভাষাই নেই! বাংলা ছাড়া ভারত হয়? পৃথিবী হয়? জাতীয় সঙ্গীতের ভাষা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। বন্দে মাতরম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। হিন্দুদের পথ প্রদর্শক শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, সারদা মা, সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়। নেতাজির জয় হিন্দ স্লোগান। রামকৃষ্ণদেবের সর্বধর্ম সমন্বয়ে আমি বিশ্বাসী। ওরা নতুন করে বাংলা ভাষা চেনাবে? আমাদের ভাষাকে নিয়ে কেউ খেলার চেষ্টা করবেন না। অসম্মান করার চেষ্টা করবেন না।’ মমতার কথায়, ‘আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। সবাইকে নিয়ে চলার বাণী শুনিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে স্বামীজি যা করে গিয়েছেন, আর কেউ করতে পারবে না। তিনি বলেছিলেন, ভারতের কল্যাণই আমার কল্যাণ। কোন ভাষায় কথা বলতেন তিনি? বাংলা ভাষায়। জানেন, ধর্মের মানেটা কী? সহনশীলতা, স্নেহ, শুভকামনা। ওরা যেটা করছে, সেটা ধর্ম নয়। বেলুড় গিয়ে দেখেছি, ওখানে একটা দরগা আছে। জিজ্ঞেস করে জেনেছি, ওটি রয়েছে স্বামীজির সময় থেকেই। স্বামীজি নৈতিক চরিত্র গঠনের কথা বলতেন। আজ চরিত্র গঠন, ইতিহাস, ধর্ম, সম্প্রীতি, সৌজন্যতাকে রক্ষা করার পালা।’ এদিন ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ভাষা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করার জন্য আমাকে ন্যাশনাল সিকিওরিটি আইনে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি বলবই। বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলার অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’
মমতার অভিযোগ, ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিশনের নামে এনআরসি চালুর চক্রান্ত হচ্ছে। ওই ফাঁদে যেন কেউ পা না দেয়। তাঁর বার্তা, ‘প্রত্যেকে ভোটার তালিকায় নাম তুলুন। কারও নাম না উঠলে আমাদের জানাবেন। আমরা সাহায্য করব। ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশি বানানোর চেষ্টা হলে কিছুতেই মেনে নেব না। তাঁর প্রশ্ন, ‘আধার, ভোটার কার্ড তো কেন্দ্রই করেছে! এখন সেইসব আর মান্যতা পাচ্ছে না কোন যুক্তিতে? নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে এমন চক্রান্ত বরদাস্ত করব না।’