Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা দিলেই মিলছে প্রতিবন্ধী শংসাপত্র, কেতুগ্রামে গজিয়ে উঠেছে বড়সড় চক্র

রাজ্য সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসে এক হাজার টাকা মানবিক ভাতা চালু করেছে। সেই টাকা হাতাতে সুস্থসবল বহু মানুষ জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট তৈরি করিয়ে মাসের পর মাস সরকারি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে৷

টাকা দিলেই মিলছে প্রতিবন্ধী শংসাপত্র, কেতুগ্রামে গজিয়ে উঠেছে বড়সড় চক্র
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: রাজ্য সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসে এক হাজার টাকা মানবিক ভাতা চালু করেছে। সেই টাকা হাতাতে সুস্থসবল বহু মানুষ জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট তৈরি করিয়ে মাসের পর মাস সরকারি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে৷ মোটা টাকার বিনিময়ে তৈরি হচ্ছে জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট। সেই সার্টিফিকেট পুর্ননবিকরণ করাতে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে এলেই হচ্ছে পর্দাফাঁস। গত কয়েকদিন ধরে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ১২টির কাছাকাছি জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট ধরা পড়েছে। পুলিসের দ্বারস্থ হচ্ছে হাসপাতাল। শোরগোল পড়ে গিয়েছে হাসপাতালজুড়ে৷ 

Advertisement

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার সৌমাশিস রাউত বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট উদ্ধার করেছি৷ সেগুলি পুর্ননবিকরণ করাতে এলে আমরা ধরতে পেরেছি৷ ওই জাল সার্টিফিকেটের সুপার, মেডিক্যাল অফিসারের স্ট্যাম্প, সই সবই জাল৷ আসল সার্টিফিকেটের একটি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকে৷ জাল সার্টিফিকেটে সেই নম্বর নেই৷ 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট কাটোয়ার পাঁচ ব্লকের মধ্যে কেতুগ্রাম-১ ব্লকেই বেশি দেখা গিয়েছে৷ বেশ কয়েকটি অঞ্চলের মধ্যেই মানবিক প্রকল্পের টাকা হাতাতে জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট তৈরি করে দিচ্ছে ওই চক্র৷ তারজন্য দিতে হচ্ছে টাকা৷ কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে কয়েকদিন ধরেই প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট পুনর্নবিকরণ করার জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ছে। সেখানেই পর্দাফাঁস হচ্ছে৷ কেতুগ্রামের পাণ্ডুগ্রাম, কান্দরা এসব অঞ্চল থেকেই বেশি জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট পাওয়া গিয়েছে৷  সন্তু মণ্ডল নামে হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, আগে ম্যানুয়ালিপ্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট দেওয়া হতো৷ এখন সেটা অনলাইনে দেওয়া হয়৷ কিউআর কোড থাকে সেখানে৷ হাসপাতালের চিকিৎসককে দেখিয়ে কত শতাংশ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা চিহ্নিত করতে হয়৷ দেখা যাচ্ছে, ওই মেডিক্যাল অফিসারের সই পর্যন্ত জাল করা হচ্ছে। আমরা হাসপাতালের পুরনো রেকর্ড দেখে বুঝতে পারছি ওই বছরে ওই ধরনের প্রতিবন্ধীসার্টিফিকেট ই্যসু করা হয়নি৷ কারণ ওই সময়ে যিনি হাসপাতালের সুপার ছিলেন তাঁর সই পর্যন্ত মিলছে না।
কেতুগ্রামের পাণ্ডুগ্রামের যুবক সুমন ঘোষ বলেন, আমরা গরিব৷ চোখের একটু সমস্যা আছে। গ্রামের এক নেতাকে বলেছিলাম, তিনি তৈরি করে দিয়েছিলেন৷ আমি ওই সার্টিফিকেট দেখিয়ে দু’-তিন বছর ধরে মানবিক ভাতা পাচ্ছি। কিন্তু আমরা তো জানিনা ওই সার্টিফিকেট জাল৷
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২২ সালে কাটোয়ার পাঁচটি ব্লক থেকে প্রায় সাড়ে চারশো ভুয়ো প্রতিবন্ধী শংসাপত্র মিলেছিল। প্রশ্ন উঠছে, ওই চক্রের মাথাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ