সংবাদদাতা, মানকর: দীর্ঘদিন ধরে কাঁকসার মলানদিঘি আড়া থেকে শিবতলা যাওয়ার রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দু’পাশে গড়ে ওঠা বহুতল আবাসনের নোংরা জল রাস্তার উপর দিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত সেই জল যাওয়ায় রাস্তায় একাধিক গর্ত তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতে আবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু, কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সমস্যার কথা জানি। বহুতল আবাসন কর্তৃপক্ষ এবং এলাকার বাসিন্দাদের ডাকা হয়েছে। মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, তারজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রাস্তা দিয়ে কাঁকসা এলাকা থেকে সহজে দুর্গাপুরে যাওয়া যায়। কাঁকসা ছাড়াও আউশগ্রাম বা বীরভূম থেকে দুর্গাপুর যেতেও বহু মানুষ এই রাস্তাটি ব্যবহার করে। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করা হয়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। রাস্তাজুড়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দু’পাশের বহুতল আবাসনের নোংরা জল রাস্তার উপর দিয়ে যাচ্ছে। তাতে রাস্তার হাল আরও খারাপ হচ্ছে, দূষণ ছড়াচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা অনিন্দিতা মশান বলেন, এমনিতেই রাস্তা বেহাল। বৃষ্টি হলে সমস্যা আরও বাড়ে। প্রতিদিন এই রাস্তায় চলাচল করি। রাস্তাটি এত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ কোনও রক্ষণাবেক্ষণ নেই। এই নোংরা জল কোথা থেকে আসছে, বুঝতে পারছি না।
আরএক বাসিন্দা কাজল চক্রবর্তী বলেন, সংস্কার না হওয়ায় নিকাশিনালা বেহাল হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে জল রাস্তার উপর দিয়ে বইছে। পঞ্চায়েতে অভিযোগ করেছি। কবে সুরাহা হবে, বুঝতে পারছি না। তাঁর অভিযোগ, বহুতল আবাসনের নোংরা জল রাস্তা দিয়ে বইছে। ওখানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেছিলাম। কিন্তু, কোনও লাভ হয়নি। পঞ্চায়েত এসে ব্যবস্থা নিক। স্থানীয়রা বলেন, আমরা চাই, রাস্তা ঠিক করা হোক। নিকাশি ব্যবস্থা করা হোক। যাতে নোংরা জল পেরিয়ে মানুষকে যাতায়াত করতে না হয়। এক পথচারী বলেন, রাস্তা খানাখন্দে ভরা। গায়ে নোংরা জল ছিটে লাগছে। আবাসনের নোংরা জল কেন রাস্তায় আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় কিলোমিটার এই রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপপ্রধান বলেন, রাস্তা সংস্কারে এসআরডিএ থেকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। প্লেভার ব্লক দিয়ে পুরো রাস্তা তৈরি করা হবে। আড়া মোড় থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তবে, বৃষ্টির জন্য কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র