সংবাদদাতা, লালবাগ: উত্তরবঙ্গের পর এবার উত্তর ভারতের সঙ্গে রেলপথে সরাসরি জুড়তে চলেছে মুর্শিদাবাদ। এবার ট্রেনে চেপে মুর্শিদাবাদ থেকে সটান পৌঁছনো যাবে উত্তর ভারতের মিজোরামে। পুজোর আগেই নশিপুর- আজিমগঞ্জ রেলসেতুর উপর দিয়ে ছুটবে কলকাতা-সাইরাং এক্সপ্রেস। এই খবর জানাজানি হতেই আপামর জেলাবাসীর মধ্যে খুশির হাওয়া। পূর্বরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, আপাতত উদ্বোধনী যাত্রা হচ্ছে। কিন্তু, বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হওয়ার কোনও খবর এই মুহূর্তে নেই। বাণিজ্যিক যাত্রার বিষয়ে পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
রেল মন্ত্রক ১ সেপ্টেম্বর এক ঘোষণায় জানিয়েছিল, কলকাতা স্টেশন থেকে বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ হয়ে নশিপুর রেলসেতুর উপর দিয়ে আজিমগঞ্জ, জঙ্গিপুর হয়ে মালদহ পৌঁছবে ট্রেনটি। সেখান থেকে রওনা দেবে মিজোরামের সাইরাং স্টেশনের উদ্দেশে। মুর্শিদাবাদ স্টেশনে স্টপেজ থাকার ঘোষণা হতেই মুর্শিদাবাদ শহর তথা জেলাজুড়ে খুশির আমেজ। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, আগে হামসফর এক্সপ্রেস দেওয়া হয়েছে। এবার জেলাবাসীকে পুজোর উপহার হিসেবে কলকাতা-সাইরাং এক্সপ্রেস দেওয়া হল। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর, শনিবার উদ্বোধনী যাত্রা শুরু করবে। জেলার মানুষ প্রতীক্ষায় ছিলেন নশিপুর-আজিমগঞ্জ রেলব্রিজ দিয়ে কবে দূরপাল্লার ট্রেন ছুটবে। এবার জেলাবাসীর সেই প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনটির বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হলে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার, বুধবার ও শনিবার কলকাতা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে ছাড়বে ট্রেনটি। পরদিন রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে সাইরাং পৌঁছবে। প্রতি সোমবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাইরাং থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছাড়বে ট্রেনটি। পরদিন দুপুর ২ টো ৩০ নাগাদ কলকাতা স্টেশন পৌঁছবে। আগামী শনিবার মিজোরামের বৈরবী স্টেশন থেকে সকাল ১০টার সময় ট্রেনটির উদ্বোধনী যাত্রা শুরু হবে। পরদিন রবিবার দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে আজিমগঞ্জ, ১২টা ৪৫ মিনিটে মুর্শিদাবাদ, ১টা ৫ মিনিটে বহরমপুর স্টেশন পৌঁছনোর কথা রয়েছে। মোট ১ হাজার ৫১২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে কলকাতা স্টেশনে রবিবার বিকেল ৫টার সময় ট্রেনটির উদ্বোধনী যাত্রা সম্পন্ন হবে। এই ট্রেনটি কবে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করবে, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মুর্শিদাবাদবাসী।
বহরমপুরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বঙ্কিম ধর বলেন, বহরমপুর থেকে সরাসরি উত্তর ভারত যাওয়ার ট্রেন নেই। ফলে শিয়ালদহ বা হাওড়ায় গিয়ে ট্রেনে চাপতে হয়। ফলে কলকাতা বা হাওড়ায় পৌঁছনোর জন্য অতিরিক্ত ৬ ঘণ্টা ট্রেন যাত্রার ধকল নিতে হয়। কলকাতা-সাইরাং এক্সপ্রেস চালু হলে বহরমপুর থেকেই ট্রেনে চাপতে পারব। স্বাভাবিকভাবেই জেলাবাসী উপকৃত হবে।
মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, এই ট্রেন চালু হওয়ার ফলে জেলায় উত্তর ভারতের পর্যটকদের আনাগোনা যেমন শুরু হবে, তেমনই বাণিজ্য ক্ষেত্রেও বিরাট পরিবর্তন ঘটবে।
জেলার এক পর্যটন ব্যবসায়ী বলেন, রেলপথে মুর্শিদাবাদ সরাসরি উত্তর ভারতের সঙ্গে জুড়ে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পর্যটকদের কলকাতা হয়ে ঘুরপথে মুর্শিদাবাদে আসতে হবে না। উত্তর ভারত থেকে সরাসরি নবাব নগরীতে পৌঁছতে পারবেন। মুর্শিদাবাদ জেলা রেলযাত্রী ফোরামের সম্পাদক আজমল হক বলেন, নশিপুর-আজিমগঞ্জ রেলসেতু চালু হলেও এতদিন কোনও দূরপাল্লার ট্রেন চলত না। রেল মন্ত্রক এবার দূরপাল্লার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে জেলাবাসী উপকৃত হবে।