নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দিলীপ আছেন দিলীপেই! সোমবার শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র পরিষদের মিটিং কার্যত ‘বয়কট’ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ পরিষদীয় নেতা দিলীপ বর্মন। শুধু তাই নয়, দলীয় কর্মসূচিতেও তিনি ছিলেন গরহাজির। এদিন তাঁকে ছাড়াই তাঁর ৪৬ ওয়ার্ডে সংস্কার হওয়া পার্টি অফিস দ্বারোদ্ঘটন করে তৃণমূল। অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্বভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মেয়র গৌতম দেব ও ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। তাঁরা সংশ্লিষ্ট পার্টি অফিসে নিয়মিত বসবেন বলে ঘোষণা করেছেন। এনিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দিলীপের ডানা ছাঁটতেই এমন কৌশল মেয়র ও ডেপুটি মেয়রের।
কয়েকদিন আগে পুরসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় কমিটির বৈঠক হয়। সেখানেও গরহাজির ছিলেন মেয়র পরিষদ সদস্য দিলীপ। তিনি পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স, ক্রীড়া ও আবাসন বিভাগের দায়িত্বে। এদিন পুরভবনে মেয়র পরিষদের বৈঠকেও অনুপস্থিত দিলীপ। তাঁর অনুগামীদের বক্তব্য, পুরসভার নেতৃত্বের সঙ্গে দিলীপদার বিরোধ এখনও মেটেনি। তাই পুরসভায় দলীয় পরিষদীয় কমিটির বৈঠক, মেয়র পরিষদের সভা ও বোর্ড মিটিং দিলীপদা বয়কট করেছেন।
দিলীপ বলেন, গত বোর্ড মিটিংয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে অপমানিত হই। সমগ্র বিষয় দলের রাজ্য নেতৃত্বকে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত দল কিছু জানায়নি। তাই পুরসভার মেয়র পরিষদের সভায় এবং বোর্ড মিটিংয়ে হাজির না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই এদিন এমআইসি মিটিংয়ে যাইনি। তবে নিয়মিত পুরসভায় গিয়ে ট্রেড লাইসেন্স ও আবাসন বিভাগে বসে বিভাগগুলির কাজকর্ম সামাল দেব।
শহরের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দিলীপ। এদিন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে সংস্কার করা দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মেয়র, ডেপুটি মেয়র, দার্জিলিং জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি (সমতল) জয়ব্রত মুকুটি, আইএনটিটিইউসির দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) নির্জল দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কাউন্সিলার দিলীপ গরহাজির ছিলেন। তিনি বলেন, সারা বছর ওয়ার্ড দেখভাল করব। আর আমাকে অন্ধকারে রেখে ওয়ার্ড অফিস উদ্বোধনের অনুষ্ঠান সূচি ঠিক করা হবে। তাই ওই অনুষ্ঠানে যাইনি। মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছি। তা করে যাব। দেখি কে রোখে?
এদিন সংশ্লিষ্ট অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রচুর মানুষ ভিড় করে। মঞ্চ থেকে এই ওয়ার্ডের উন্নয়নের দায়িত্বভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেন মেয়র ও ডেপুটি মেয়র। পরে তৃণমূলের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি মহম্মদ জহুর বলেন, এটা দীর্ঘদিনের পুরনো অফিস। বিভিন্ন কারণে মাঝে কিছুদিন এই অফিস বন্ধ ছিল। এটা সংস্কার করে আবার উদ্বোধন করা হল। মাসে দু’বার মেয়র এবং সপ্তাহে তিনবার ডেপুটি মেয়র দলের এই অফিসে বসবেন। এতে ওয়ার্ডে বুথ ভিত্তিক উন্নয়নে জোয়ার আসবে বলেই আশা করছি। নিজস্ব চিত্র।