নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ছাত্রীদের সুরক্ষায় তৎপর স্কুল কর্তৃপক্ষ। গোঘাটের কামারপুকুর নয়নতারা বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল অ্যাটেন্ডেন্সের যন্ত্র বসল স্কুলে। বৃহস্পতিবার তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ছাত্রীরা স্কুলে এসে ওই যন্ত্রের সামনে দাঁড়ালে তার চোখের রেটিনা স্ক্যান করবে যন্ত্রটি। তৎক্ষণাৎ তার বাড়িতে অভিভাবকের কাছে মোবাইলে মেসেজ পৌঁছবে। ছাত্রীর স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিত করবে ওই এসএমএস। একইভাবে স্কুল থেকে ছুটি হয়ে বেরনোর সময়েও যন্ত্রের সামনে ওই পড়ুয়াকে দাঁড়াতে হবে। অভিভাবক বাড়িতে বসেই মেসেজের মাধ্যমে জানতে পারবেন তাঁর মেয়ের অবস্থান। স্কুলের অভিনব এই উদ্যোগকে অভিভাবকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারসঙ্গে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও অভিভাবকরা কিছুটা স্বস্তি বোধ করেছেন।
স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা কামারপুকুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শুভ্রপ্রকাশ লাহা বলেন, ছাত্রীদের অনেকেই বাড়ি থেকে একা একা স্কুলে আসে। ফলে স্কুলে পাঠিয়ে অনেক সময় অভিভাবকরা চিন্তা করেন। মেয়ে ঠিকভাবে স্কুলে পৌঁছল কি না, তা নিয়ে কৌতূহলও থাকে। অনেকেই আবার স্কুলে খোঁজও নেন। আবার স্কুল ছুটি হয়ে বেরনোর ক্ষেত্রেও একইভাবে তাঁদের উৎকণ্ঠা থাকে। স্কুল কর্তৃপক্ষ হিসেবে আমাদেরও মাঝেমাঝে চিন্তা হয়। তাই এই যন্ত্র বসানোর বিষয়টি আমার মাথায় আসে। তারপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এই যন্ত্রের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নিই।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ভাস্বতী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই যন্ত্র বসানোর আগে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। তাঁরা এই উদ্যোগে খুবই খুশি। যন্ত্র বসাতে আমরা কামারপুকুর পঞ্চায়েতকে অনুরোধ করেছিলাম। পঞ্চায়েত তাতে সাড়া দিয়ে যন্ত্রটির ব্যবস্থা করেছে। যন্ত্র ব্যবহারের জন্য বাৎসরিক খরচ স্কুলই তার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে।
প্রধান রাজদীপ দে বলেন, কামারপুকুর পঞ্চায়েত জেলার মধ্যে নারী বান্ধব গ্রামের স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই নারীদের সুরক্ষা ও সুবিধার্থে ওই স্কুলে ডিজিটাল অ্যাটেন্ডেন্সের যন্ত্র বসানো হয়েছে। চলতি আর্থিক বছরে নারীদের কল্যাণে আরও গুচ্ছ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সেগুলি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারপুকুর নয়নতারা বালিকা বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। প্রায় ৭০০ জন ছাত্রী রয়েছে। ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ ই ডায়েরি সিস্টেম চালু করেছে। এদিন অষ্টম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীদের ফেস আইডেন্টিফিকেশন করা হয়েছে। বাকি ছাত্রীদের ওই কাজ দ্রুত হবে। এদিন তার উদ্বোধনীতে ছিলেন স্কুল পরিচালন কমিটির সদস্য সোমনাথ লাহা, মানিক নন্দী সহ শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা। অভিভাবকদেরও অনেকে হাজির হন। • নিজস্ব চিত্র