সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘার নেহরু মার্কেটের মানোন্নয়নের দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। এটা দীঘার সবচেয়ে বড় মার্কেট। ৩০ বছরের বেশি পুরনো এই মার্কেটে স্টল ও পসরা মিলিয়ে পাঁচশোর কাছাকাছি দোকান রয়েছে। প্রচুর দোকানপাট থাকা সত্ত্বেও বাজারের নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই জল থই-থই অবস্থা হয় মার্কেটের। আলোর ব্যবস্থা ঠিকঠাক নেই। এছাড়াও নানা সমস্যা রয়েছে। মাসখানেক আগে জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময় মার্কেটের সামনে আবদ্ধ থাকা জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পেভার ব্লক দিয়ে ঝাঁ-চকচকে পার্কিং প্লেস তৈরি হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা বাইক-সাইকেল রাখেন। কিন্তু, বাজারের মধ্যে চিত্রটা আলাদা। এই পরিস্থিতিতে দীঘা নেহরু মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির কর্তারা দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থা(ডিএসডিএ) সহ প্রশাসনিক মহলে দরবার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আজ যেখানে বাজার রয়েছে, আগে সেই জায়গাটি খেলার মাঠ ছিল। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু দীঘায় এসে জনসভা করেছিলেন। তারপর থেকে জায়গাটির নাম নেহরু ময়দান হয়ে যায়। পরবর্তীকালে এলাকাটি ডিএসডিএর আওতায় আসে এবং ময়দানে মার্কেট গড়ে ওঠে। বাজারের মধ্যস্থলে নেহরুর আবক্ষ মূর্তিও রয়েছে। বাজারে ডিএসডিএর তরফে দেওয়া ৩০০টি স্টল রয়েছে। বাজার চত্বরে পসরা সাজিয়ে সব্জি, মাছ সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি হয়, এরকম ২০০টি দোকান রয়েছে। এখানে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার মানুষজন তো বটেই, বেড়াতে আসা বহু পর্যটক ঝিনুকের সামগ্রী সহ নানা জিনিসপত্র কিনতে আসেন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নেহরু মার্কেটে আসেন। এখানে সংশ্লিষ্ট পদিমা-২ পঞ্চায়েতের উদ্যোগে পানীয় জলের রিজার্ভার বসেছে। শৌচালয় গড়েছে ব্যবসায়ী সমিতি।
তিন দশক আগে গোটা বাজারে ইট বিছিয়ে চাতাল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, বর্তমানে বেশ কিছু জায়গায় চাতাল ভেঙে গিয়েছে। গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে জল জমে থাকে। বাজারের মধ্যে একটি বড় ড্রেন এবং মাছবাজার সহ অন্যান্য দোকানপাটের জল যাওয়ার জন্য আরও দু’টি সরু ড্রেন রয়েছে। বড় ড্রেনটি হাইড্রেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জল বেরিয়ে দীঘা মোহনার কাছে খালে চলে যায়। কিন্তু, কোনও ড্রেন পরিষ্কার হয় না। নোংরা জল ভাসতে থাকে। বর্ষাকালে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই গোটা বাজারে জল উপচে পড়ে। বাজারের মধ্যস্থলে ব্যবসায়ীরা যেখানে পসরা সাজিয়ে সব্জি বিক্রি করেন, সেখানে একহাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের নানা জিনিসপত্র ক্ষতিও হয়। সেই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে ব্যবসায়ীরা চৌকি পেতে তাতে বাঁশ দিয়ে ত্রিপলের ছাউনি তৈরি করেছেন। তবে ক্রেতাদের খুব সমস্যার মধ্যে বাজারহাট করতে হয়। নেহরু মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুশীল প্রধান ও সভাপতি পার্থসখা জানা বলেন, স্টল ও পসরা সাজিয়ে বসা দোকানপাটগুলি থেকে ডিএসডিএ লক্ষ লক্ষ টাকা ট্যাক্স নেয়। কিন্তু, ডিএসডিএ ব্যবসায়ীদের সমস্যা সম্পর্কে নীরব। একাধিকবার ডিএসডিএ সহ এলাকার বিধায়ক, পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন মহলে এইসব ইস্যুতে ডেপুটেশন দেওয়া হলেও লাভ হয়নি। ডিএসডিএ’র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নীলাঞ্জন মণ্ডল বলেন, খোঁজ নিচ্ছি। ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলি নিরসনে কী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা দেখব।-নিজস্ব চিত্র