Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রেনের চাকা ফেটে চৌচির! দেশপ্রাণে আটকে দীঘা লোকাল

চলন্ত ট্রেনের চাকা ফেটে খসে পড়ল তার অংশ। এই বিপত্তির জেরে সোমবার দেশপ্রাণ স্টেশনে থমকে গেল ডাউন দীঘা-পাঁশকুড়া লোকাল।

ট্রেনের চাকা ফেটে চৌচির! দেশপ্রাণে আটকে দীঘা লোকাল
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: চলন্ত ট্রেনের চাকা ফেটে খসে পড়ল তার অংশ। এই বিপত্তির জেরে সোমবার দেশপ্রাণ স্টেশনে থমকে গেল ডাউন দীঘা-পাঁশকুড়া লোকাল। আড়াই ঘণ্টা স্টেশনেই থমকে ছিল ট্রেনটি। দেখা যায়, ভেন্ডার কামরার লোহার চাকার একটা বড় অংশ ভেঙে খসে পড়েছে। সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে দীঘা থেকে ট্রেনটি পাঁশকুড়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সকাল ৮টায় দেশপ্রাণ স্টেশনে স্টপেজ দেওয়ার পর ট্রেন ছাড়তেই বিপত্তি ঘটে। সেই সময়ে ইঞ্জিন, লেডিজ কামরা ও ভেন্ডার কামরা প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও ট্রেনের বাকি কামরা প্লাটফর্মের মধ্যেই ছিল। তখনই বিগড়ে যায় ওই যাত্রীবাহী লোকাল। কিছুতেই এগোচ্ছিল না। এরপরই ট্রেনের কর্মীদের কাছে খবর পৌঁছয়। তাঁরা সকাল ১০টা নাগাদ পাঁশকুড়া থেকে দেশপ্রাণ স্টেশনে গিয়ে ওই বিপত্তির কারণ খুঁজে বের করেন। এদিকে দেশপ্রাণ স্টেশনেই দু’ ঘণ্টা ট্রেন থমকে যাওয়ায় যাত্রীদের অনেকেই বাজকুলে এসে বাস ধরে যে যাঁর গন্তব্যস্থলে রওনা দেন। কয়েকজন অবশ্য ট্রেনে বসেছিলেন।

Advertisement

সকাল ১০টা নাগাদ পাঁশকুড়া স্টেশন থেকে রেলের টেকনিক্যাল কর্মীরা দেশপ্রাণ স্টেশনে যান। তাঁরা ভেন্ডার কামরার নীচে ফেটে যাওয়া চাকা চিহ্নিত করে তার ছবি তুলে খড়্গপুরে রেলের পদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে পাঠান। সেখান থেকে ওই ট্রেনকে ধীর গতিতে সরিয়ে খড়্গপুর কারশেডে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়। সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে ওই ট্রেন দেশপ্রাণ স্টেশন থেকে লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। বাজকুল ও চণ্ডীপুরের মাঝে দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। ওই পথ যেতে ট্রেনটির প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। ১১টা ১৫ মিনিটে লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক স্টেশন নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর বেলা সওয়া ১২টা নাগদান নন্দকুমার স্টেশনে আনা হয়। বিকেল ৫টা নাগাদ ওই ট্রেন তমলুক স্টেশন থেকে খড়্গপুর কারশেডের উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই ট্রেনে রামনগর স্টেশনে উঠেছিলেন দীপক গায়েন। তিনি বলেন, আমি ভেন্ডার কামরার পর বগিতে ছিলাম। রামনগর স্টেশনে ওঠার পরই একটা আওয়াজ পাচ্ছিলাম। সেই আওয়াজ বন্ধ হচ্ছিল না। ওই অবস্থায় ট্রেন যাচ্ছিল। দেশপ্রাণ স্টেশনে ১ নম্বর প্লাটফর্মে আমাদের ট্রেন দাঁড় করিয়ে ২ নম্বর প্লাটফর্ম দিয়ে দীঘাগামী লোকাল পাস করানো হয়। ওই ক্রসিংয়ের পর আমাদের লোকাল ছাড়ার পরই ব্রেক কষে থামিয়ে দেন চালক। সামনে থাকা ইঞ্জিন, লেডিজ বগি, ভেন্ডার কামরা ততক্ষণে প্লাটফর্ম থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ট্রেনের বাকি অংশ প্লাটফর্মে ছিল। ওই অবস্থায় ট্রেনটিকে পিছিয়ে প্লাটফর্মে আনা হয়। তারপরই উৎসুক যাত্রীরা আওয়াজের উৎস খুঁজতে নেমে পড়েন। আমরা ভেন্ডার কামরার নীচে ফেটে যাওয়া ওই চাকা খুঁজে বের করি। পাঁশকুড়া থেকে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটের লোকালে চড়ে রেলের টেকনিক্যাল কর্মীরা দেশপ্রাণ স্টেশনে আসেন। আমি ওই লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক স্টেশনে নামার জন্য ওই ট্রেনে বসেছিলাম। ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ ওই লোকাল লবণ স্টেশনে পৌঁছয়। পাঁশকুড়া-দীঘা লাইনের ডিভিশনাল ট্রান্সপোর্টেশন ইন্সপেক্টর (ডিপিআই) সঞ্জীবকুমার দাসমহাপাত্র বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই লোকাল দেশপ্রাণে দাঁড়িয়েছিল। পরে সেটি খড়্গপুর কারশেডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ