সংবাদদাতা, কাঁথি: আগে প্রতিবার শারদোৎসবের দিনগুলিতে দীঘা মানে ছিল সমুদ্রের অপরূপ শোভা দর্শন, সমুদ্রস্নান, সাগরপাড়ে ঘুরে বেড়ানো কিংবা দ্রষ্টব্য স্থানগুলি দর্শন। ব্যস, এটুকুই। এভাবেই কাটত পুজোর সময়টা। তবে এবছর ছবিটা আলাদা, সম্পূর্ণ ভিন্ন। সমুদ্র দর্শনের সঙ্গে উপরি পাওনা নিঃসন্দেহে দীঘার জগন্নাথ মন্দির। গত ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন হওয়ার পর এযাবৎ লক্ষ লক্ষ পর্যটক এবং পুণ্যার্থী জগন্নাথ মন্দির দর্শন করতে এসেছেন। বর্তমানে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ মন্দির এবং জগন্নাথদেবের দর্শনে আসছেন। মন্দিরের অপূর্ব স্থাপত্য আর জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা সহ অন্যান্য দেবদেবী দর্শনেই সময় কেটে যাবে। চোখ বুজে বলা যায়, এবার পুজোয় অন্যতম পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ হতে চলেছে জগন্নাথ মন্দির। পুজোর আর বেশি দেরি নেই। বাঙালির মেগা উৎসবের কাউন্টডাউনও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে নিজের মতো করেই সেজে উঠছে সৈকতশহর দীঘাও।
এবার পুজোয় জগন্নাথ মন্দিরের বাড়তি আকর্ষণে দীঘায় পর্যটকদের ব্যাপক ঢল নামবে বলে আশাবাদী হোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সৈকতপাড়ের দোকানদাররা। পুজো মানেই পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মরশুম। উৎসবের মরশুমে লক্ষ্ণীলাভের আশায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। পাশাপাশি দীঘাকে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থাও। ইতিমধ্যেই দীঘার হোটেল-লজে বুকিং নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে দীঘার রাস্তাঘাট ঝাঁ-চকচকে করা হচ্ছে। আলো লাগানোর কাজ চলছে। আগেই নিকাশি সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। ঢেউসাগর, অমরাবতী সহ অন্যান্য পার্কগুলিকে সাজানো হচ্ছে। হোটেল-লজগুলিও আলোকমালায় সেজে ওঠার অপেক্ষায়। দীঘায় বেশকিছু ক্লাব এবং হোটেল সংগঠন পুজোর আয়োজন করে। পুজোকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পর্যটকরাও মেতে ওঠেন। প্রতিটি পুজোই জমজমাট হয়। নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। পুজোয় পর্যটকরা মণ্ডপগুলিতে শুধু ঘুরে বেড়ানো নয়, অঞ্জলিও দেন। অনুষ্ঠানগুলিতেও অংশগ্রহণ করেন। বেড়ানোর আনন্দ দ্বিগুণ করে নেন পর্যটকরা। পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিবছরই ওল্ড ও নিউ দীঘার বেশকিছু হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য খাওয়াদাওয়া ও কাছেপিঠে ঘুরে বেড়ানোর জন্য বিশেষ প্যাকেজের আয়োজন করে। যা পর্যটকদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় এবং অনেকেই সেই সুবিধা উপভোগ করেন। এবারও তার প্রস্তুতি শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট হোটেল-লজ মালিকরা।
দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, এবছর এপর্যন্ত বুকিংয়ের হার ৩০ শতাংশ। তবে প্রতিবারের মতো এবারও পুজোর চারদিন সময় ভালোই ভিড় হবে বলে মনে করছি। তবে বেশি ভিড় হয় পুজোর ঠিক পরই। বিশেষ করে নবমী-দশমী থেকে বাকি কয়েকটা দিন দীঘায় পর্যটকদের ঢল নামে। যার রেশ থাকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। এবারও একই ছবি থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
উন্নয়ন সংস্থার মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নীলাঞ্জন মণ্ডল বলেন, দীঘা এমনিতে সেজেই রয়েছে। তবে পুজোর কথা মাথায় রেখে দীঘাজুড়ে যে সমস্ত পথবাতিগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তা মেরামত করা হচ্ছে। বিশ্ববাংলা উদ্যানগুলিতে যেখানে খামতি রয়েছে, তা ঠিক করা হচ্ছে। গলি সহ মূল রাস্তার মধ্যে যেটা খারাপ রয়েছে, সেখানে মেরামত করার কাজ চলছে। পুজোয় দীঘাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারেও জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, এবার পুজোতেও জগন্নাথ মন্দির পর্যটক তথা পুণ্যার্থীদের কাছে যে সেরা আকর্ষণ হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।