সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা হাসপাতালের কলেবর ও পরিকাঠামো বাড়ছে। এই হাসপাতালে বর্তমানে ৬৪টি শয্যা রয়েছে। আগামী দিনে আরও ৫০টি শয্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। ফলে মোট শয্যাসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১১৪। শয্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক-নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাও বাড়বে। কিন্তু তাঁদের জন্য তৈরি কোয়ার্টারগুলির একেবারে বেহাল দশা। সেই পরিকাঠামো সরিয়ে ফেলে নতুন কোয়ার্টারও গড়ে উঠবে। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ অসিতকুমার দেওয়ান বলেন, পুরনো ভবনের সঙ্গে নতুন ভবন সংযুক্ত করে মোট ৫০টি শয্যার পরিকাঠামো তৈরি হবে। এব্যাপারে স্কিম তৈরি করে স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে পাঠানোর জন্য পেপারওয়ার্ক চলছে। ইতিপূর্বে মাটি পরীক্ষা সহ অন্য প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দীঘা সহ সংশ্লিষ্ট রামনগর বিধানসভার বড় অংশের মানুষ চিকিৎসা পরিষেবার ব্যাপারে এই হাসপাতালের উপরই নির্ভরশীল। প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার বালেশ্বর জেলার একটি অংশের মানুষ এই দীঘা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন। সৈকত শহরে বেড়াতে এসে কোনও পর্যটক দুর্ঘটনায় পড়লে কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের কাছে এই হাসপাতালই ভরসা। সম্প্রতি জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কিংবা রথযাত্রা উৎসবে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দীঘা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাড়তি দায়িত্ব ছিল। আগামীদিনেও দীঘায় কোনও বড় ইভেন্ট হলে স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্ব দীঘা হাসপাতালের উপরই বর্তাবে। সবদিক বিচার করে এই হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই সুপার সন্দীপকুমার বাগ জানালেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা ১৭ জন। নার্স ৫০ জনের কাছাকাছি এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। সুপার বলেন, ৫০টি শয্যা তো হচ্ছেই। ধাপে ধাপে সব কাজ হবে। আগামীদিনে এই হাসপাতালের ভোল আরও বদলাবে।
জানা গিয়েছে, এর আগে হাসপাতালের ওপিডি’র নতুন ভবন ও তার পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। নতুন ভবনে পর্যাপ্ত রুম তৈরি করে সেখানে শিশু, চক্ষু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা ও সার্জারি বিভাগ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকি বিভাগগুলি পুরনো ভবন থেকেই পরিচালিত হয়। চিকিৎসকদের তো বটেই, রোগী ও রোগীর বাড়ির লোকজনদের বসার জায়গা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। যাবতীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ১৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। অস্বাভাবিক ঘটনায় মারা যাওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানোর আগে সাময়িক সংরক্ষণের জন্য এই হাসপাতালে মর্গ তৈরি হয়েছে। এজন্য সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। এজন্য ৬৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এসব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থা (ডিএসডিএ)। নতুন করে হাসপাতালের উন্নয়নে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছে ডিএসডিএ। সব মিলিয়ে এপর্যন্ত দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়নে দু’কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে ডিএসডিএ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিএসডিএ-র দেওয়া ৫ লক্ষ টাকায় ফার্মেসি বিভাগের নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে। আগামীদিনে হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিট তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে।